Migraine Pain? আপনার কি মাইগ্রেনের ব্যথা? তাহলে এখন কি করবেন?

Migraine Pain? আপনার কি মাইগ্রেনের ব্যথা? তাহলে এখন কি করবেন?

মাইগ্রেনের ব্যথা হলো এক ধরনের তীব্র, দপদপ করা মাথাব্যথা যা সাধারণত মাথার একপাশে হয় এবং এর সাথে বমি বমি ভাব, বমি, আলো ও শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা, ও ঝাপসা দৃষ্টির মতো উপসর্গ থাকে। এই ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং এটি শারীরিক পরিশ্রম, আলো, শব্দ বা গন্ধের কারণে আরও খারাপ হতে পারে। এটি সাধারণ মাথাব্যথা নয়, বরং একটি স্নায়বিক অবস্থা।

কিভাবে বুঝবেন আপনার মাইগ্রেনের ব্যথাঃ

বেশি ক্লান্তি, কিছু খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এইসব দিক দেখা দিলে অনেকের ক্ষেত্রেই মাইগ্রেন এর ব্যথা দেখা দেয়। এটি মস্তিষ্কের একটি জড়ানো স্নায়বিক রোগ, যা জেনেটিক এবং পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণে ঘটে থাকে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে নিম্নে কিছু খাবার  এড়িয়ে চলা মাইগ্রেনের ব্যথার জন্য খুবই জরুরীঃ-

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন:

  • অ্যালকোহল: রেড ওয়াইন এবং বিয়ারের মতো অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়।
  • চকোলেট: এতে থাকা কিছু রাসায়নিক মাইগ্রেন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে করতে পারে।
  • প্রক্রিয়াজাত মাংস: হট ডগ, বেকন, সালামি,  হ্যাম ইত্যাদিতে থাকা নাইট্রেট ।
  • বয়স্ক পনির: চেডার, সুইস, ব্লু চিজের মতো পনির, যাতে টাইরামাইন থাকে।
  • কৃত্রিম মিষ্টি: অ্যাসপার্টেম (Aspartame)।
  • ক্যাফিন:  চা, কফি, কোলা, এবং ক্যাফিনযুক্ত অন্যান্য পানীয় খাবার সমূহ।
  • দুধ: দুধ, দই এবং পনির সহ দুগ্ধজাত দ্রব্য সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • MSG (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট): ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও স্যুপে থাকে।
  • আচারযুক্ত ও গাঁজানো খাবার: আচার, স্যুরক্রট (Sauerkraut)।
  • কিছু ফল: কলা, সাইট্রাস ফল (লেবু, কমলা), অ্যাভোকাডো, কিসমিস (কিছু ক্ষেত্রে)।
  • বাদাম: চিনাবাদাম, চিনাবাদাম মাখন, কাজুবাদাম, আখরোট, পেকান, পেস্তাবাদাম, কুমড়োর বীজ, তিলের বীজ, চিনাবাদাম তেল এবং তিলের তেল
  • অন্যান্য: ডিম, প্রক্রিয়াজাত খাবার, এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার।

এই সমস্যায় পড়ে গেলে কি করা উচিৎ-

প্রথমত, মাইগ্রেনের লক্ষণ দেখা দিলেই অন্ধকার, শান্ত ঘরে বিশ্রাম নিন, ঠান্ডা/গরম সেঁক দিন, পর্যাপ্ত জল পান করুন, এবং ট্রিগার (যেমন স্ট্রেস, নির্দিষ্ট খাবার) এড়িয়ে চলুন; নিয়মিত ঘুম, ব্যায়াম, ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ; অ্যাসিটামিনোফেন বা আইবুপ্রোফেন (ডাক্তারের পরামর্শে) ব্যবহার করা যেতে পারে।

মাইগ্রেনের ব্যথার জন্য উপকারী খাবারগুলো নিম্নে বর্ণনা করা হলো:

জল: প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন, কারণ এতে রয়েছে ডিহাইড্রেশন মাইগ্রেনের একটি বড় কারণ।

ম্যাগনেসিয়াম: যেসব খাবার পেশী শিথিল করতে সাহায্য করে। যেমন- বাদাম (যেমন আমন্ড), বীজ (যেমন কুমড়োর বীজ), শিম, ডাল, পালং শাক, কেল (kale) ইত্যাদি ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ।

ভিটামিন বি: মাশরুম, ফ্যাটি ফিশে পাওয়া ভিটামিন B2, B6, B12 মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: বেরি, সাইট্রাস ফল (কমলা, লেবু), ডার্ক লিফি গ্রিনস (পালং শাক) ফ্রি র‍্যাডিক্যালস কমাতে সাহায্য করে।

ওমেগা-৩: স্যামন, টুনা ও অন্যান্য তৈলাক্ত মাছ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

আদা: আদা চা প্রদাহ ও বমি বমি ভাব কমাতে কার্যকর।

সাধারণত এই বিষয়গুলো মেনে চললে স্বাভাবিক/প্রাথমিক ধাপ আপনি বেঁচে যেতে পারেন, তবে অতিরিক্ত হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কিছু করা অনুচিত হবে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রুটিন তৈরি করা উচিৎ।   

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *