হাদি হত্যা মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে কারা স্বাক্ষ্য দিচ্ছে?

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি

শহীদ ওসমান হাদির হত্যার ঘটনা প্রমাণের জন্য ৭৭জনকে স্বাক্ষী করা হয়েছে।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি,  ফয়সলের বোন জেসমিন আক্তার, মুক্তি আক্তার, ফিলিপ স্মাল পিলিপস ।

৬ জানুয়ারী, ২০২৬ রোজ মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সিএমএমসি)তে হাদিকে হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ আরও ১৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ চার্জশিট দাখিল করেন (সিএমএমসি)তে। চার্জশিটে সাক্ষী হিসেবে আব্দুল্লাহ আল জাবের, নিহত ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি, ডা: মো: মাহফুজুর রহমান, হাদিকে বহনকারী রিকশাচালক কামাল হোসেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ, জব্দতালিকা প্রস্তুতকারী পুলিশ, মামলার রেকর্ডকারি পুলিশ অফিসার ও প্রত্যক্ষদর্শীরাসহ সর্বমোট ৭৭ জনকে করা হয় ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফয়সালসহ আরও ৭ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন এবং ফয়সাল করিম মাসুদের পিতা- মো: হুমায়ুন কবির ও মাতা- মোসাঃ হাসি বেগমসহ ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। চার্জশিটভুক্ত মোট ১৭ আসামি।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) এ মামলার চার্জশিটটি স্বাক্ষর করেন এবং ডিবি পুলিশের দেয়া চার্জশিটের ওপর কোনো আপত্তি আছে কিনা আগামী ১২ জানুয়রি মামলার বাদীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেছেন তা জানানোর জন্য।  

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এ নোটিশ প্রদান করেন । পুলিশের উপ-পরিদর্শক রুকোনুজ্জামান বলেন, বুধবার হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট স্বাক্ষর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।

মোঃ হুমায়ুন কবির, মোসা: হাসি বেগম, ফয়সালের সহযোগী মো: কবির, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিল বাপ্পির বোন জামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ ফয়সাল ও রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো: নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল এরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছে।

দুষ্কৃতকারী ফয়সাল ও তার সহযোগী গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৪ ডিসেম্বর  আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় একটি অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি) ৩৪/১০৯/৩০৭/৩২৬ ধারায় অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে।  ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ এই আদেশ দেন ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫।

১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে শহীদ ওসমান হাদি মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে দুষ্কৃতকারীরা তাকে গুলি করে। পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদিকে পিছন থেকে অনুসরণ করে আসা মোটরসাইকেলে থাকা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদ ও তার সহযোগী অজ্ঞাত পরিচয় আসামি ওসমান হাদিকে চলন্ত অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্য আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসারত অবস্থায়  ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী মারা যান।

আহত শরিফ ওসমান হাদিকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির  শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সিঙ্গাপুরে আহত শরিফ ওসমান হাদি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *