ভূমি সংস্কার আইন- ২০২৩ অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কত বিঘা জমি ভোগ দখলে নিতে পারেন অথবা কত বিঘা জমি সে কিনতে পারবে এবং যদি আইনের শর্ত ভঙ্গ করে তাহলে কি হবে তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো-

কৃষি ভূমি অর্জনের সীমাবদ্ধতা
ভূমি সংস্কার আইন- ২০২৩, (দ্বিতীয় অধ্যায় কৃষি ভূমি অর্জন সীমিতকরণ) অনুযায়ী একজন ব্যক্তি ৬০ (ষাট) প্রমিত বিঘার অধিক কৃষি ভূমির মালিক বা তাহার পরিবার হস্তান্তর, উত্তরাধিকার, দান বা অন্য কোনো উপায়ে নূতন কোনো কৃষি ভূমি অর্জন করিতে পারিবেন না। অর্থাৎ দেশীয় আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তি বর্তমান বাংলাদেশে ৬০ (ষাট) বিঘার বেশি জমি মালিকানা স্বত্ত লাভ করতে পারবেন না। জমিটি ক্রয়সূত্রে হোক বা দান হোক অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে হোক কিংবা অন্য যে কোন মাধ্যমেই হোক ৬০ (ষাট) বিঘা জমির মালিক হতে পারবেন একজন ব্যক্তি।
দেশ স্বাধীনের পরবর্তী সময়ে ১০০ (একশত) প্রমিত বিঘার বেশি কৃষিজমি না রাখার বিধানটি প্রথম চালু হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ (Land Reforms Ordinance, 1973) -এর মাধ্যমে। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার শেখ মুজিবুর রহমান-এর শাসনামলে ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ চালু করেছিলেন, যা ভূমি প্রশাসন ও সংস্কার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভূমিহীনদের মধ্যে কৃষি খাসজমি বিতরণের লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা তৎকালীন ভূমি রাজস্ব ও প্রশাসন ব্যবস্থার সংস্কারের একটি অংশ ছিল। পরবর্তীতে এই আইনের মাধ্যমে সরকার ৬০ (ষাট) বিঘা জমি রাখার বিধান চালু করে। বর্তমানে এটি কার্যকর একটি আইন।
৬০ (ষাট) বিঘার অতিরিক্ত জমি রাখার বিধান/নিয়মঃ-
৬০ বিঘার বেশি জমি কোন ব্যক্তির হলে তা সরকার ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে খাস করে নেবে অথবা,
- জনস্বার্থে কোনো কাজের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত এ ধরনের জমি;
- চা, কফি, রাবার বাগান বা অন্য কোনো ফল বাগানের জন্য ব্যবহৃত জমি;
- কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান/ব্যবসায়িক কাজের নিজস্ব কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য জমি ব্যবহার করলে;
- যদি সমবায় সমিতির নামে সকল সদস্যরা তাদের জমির মালিকানা সমিতির অনুকূলে হস্তান্তর করিয়া নিজেরা চাষাবাদ করিলে;
- কোনো সংস্থা কর্তৃক জনকল্যাণার্থে সরকারের অনুমোদনক্রমে ব্যবহৃত ভূমি;
- কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শতভাগ রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্য বা কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য অথবা শতভাগ রপ্তানিমুখী বিশেষায়িত শিল্পের জন্য সরকারের অনুমোদনক্রমে ব্যবহৃত ভূমি;
- ওয়াকফ, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক বা ধর্মীয় ট্রাস্টের ক্ষেত্রে এটার মালিকানাধীন ভূমির সম্পূর্ণ আয় ধর্মীয় বা দাতব্য কাজে ব্যয় হইলে:
- কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিল্প কারখানা স্থাপন বা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সরকারের অনুমোদনক্রমে ব্যবহৃত ভূমি; এবং
তবে শর্ত থাকে যে, ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যদি জমির আয় আংশিক ধর্মীয় বা দাতব্য কাজে এবং আংশিক কোনো ব্যক্তির স্বার্থে ব্যয় হইয়া থাকে, তবে ভূমির যে অংশের আয় কেবল ধর্মীয় বা দাতব্য কাজে ব্যয় হয় সেই পরিমাণ জমির ক্ষেত্রে ৬০ (ষাট) বিঘার অধিক কৃষি ভূমির মালিক বা তাহার পরিবার হস্তান্তর, উত্তরাধিকার, দান বা অন্য কোনো উপায়ে নূতন কোনো কৃষি ভূমি অর্জন করিতে পারিবেন না।



