Friday, May 7, 2021
Homeপরিবেশ প্রকৃতিসমূদ্র উপকূলে সামুদ্রিক জলজ প্রাণীর ধারাবাহিক প্রাণহানি সহ সমূদ্র সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধিতে...

সমূদ্র উপকূলে সামুদ্রিক জলজ প্রাণীর ধারাবাহিক প্রাণহানি সহ সমূদ্র সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধিতে সেভ দ্যা ন্যাচারের উদ্বেগ প্রকাশ।

আব্দুল হক হিরন– উপদেষ্টা নিত্য সংবাদ ডট কম এবং সাধারন সম্পাদক সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।।

সারা বিশ্বব্যাপি পরিবেশ পকৃতির উপর বিপর্যয় নেমে আসছে, আমাজনের জঙ্গল থেকে অষ্ট্রেলিয়ার বন এবং সমুদ্রের প্রাণিকুল কোন কিছুই বাদ যাচ্ছেনা এই বিপর্যয়ের হাত থেকে যার কারনে প্রকৃতি পরিবেশ উপর থেকে ভারসাম্য হারাচ্ছে ধিরে ধিরে।

কক্সবাজার জেলার হিমছড়ি সমুদ্র সৈকত এ আজ হঠাৎ ভেসে আসল বৃহৎ আকারের একটি মৃত নীল তিমি। তিমির গায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গনমাধ্যমের বরাত দিয়ে যানা যায়, ভেসে আসা মৃত তিমিটি সরিয়ে ফেলার কাজ করছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, অতিরিক্ত ওজনের কারণে হিমশিম খাচ্ছে উদ্ধার কর্মীরা।

পরিবেশ প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা দেশের সর্ববৃহৎ পরিবেশ সংগঠন সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল হক হিরণের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,গভীর সমূদ্র এবং সমূদ্র উপকূলে পরিবহন, মৎস্য আহরণে নিয়োজিত নৌযান, বড় বড় জাহাজ থেকে পোড়া তেল, মবিল সহ অপরিশোধিত বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে প্রতিনিয়ত সমূদ্র দূষণের কারণে সামুদ্রিক জলজ প্রাণী সমূহের নিরাপদ আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে এসব প্রাণী বেঁচে থাকার লড়াই করছে দীর্ঘায়িত হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। পাশাপাশি মৎস্য অধিদপ্তর,সমূদ্র গবেষণা ইনিস্টিটিউট, বন বিভাগ সহ রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল সংস্থা সমূহের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এক্ষেত্রে বহুলাংশে দায়ী। এক বিভাগ অন্য বিভাগের উপর দায় চাপিয়ে চরম অবহেলা ও উদাসীনতায় দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চায়। সংকট উত্তরণে জলজ প্রাণী সহ সামূদ্রিক সম্পদের নিরাপদ এবং সুষ্ঠু ব্যবহার,আহরণ,উত্তোলন নিশ্চিতে স্বতন্ত্র এবং শক্তিশালী একটি অভিভাবক সংস্থা গঠন করতে হবে। গভীর সমুদ্র,সমূদ্র উপকূলে নিরাপদ ও টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিতে মৎস্য আহরণের সাথে জড়িত প্রান্তিক জেলেদের মৎস্য আহরণ আইন,নিয়ম,নীতিমালা সম্পর্কে সচেতন করতে মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা অতিব জরুরি। সামূদ্রিক সম্পদ ও জলজ প্রাণীর সুরক্ষায় সমূদ্র দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি সহ সমূদ্র আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ককসবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান সহ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পরিবেশবাদী সংগঠন “সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ” কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ওমর ফয়েজ হৃদয়, সহ সভাপতি রাশেদুল আবেদিন, সহ সভাপতি আনিস, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ, সদস্য টিপু, হিরো, রহমতুল্লাহ, মুস্তফা।

ব্রাইডস হোয়েল Bryde’s whale এই প্রজাতির তিমি বিশ্বের নানান সাগরসহ বাংলাদেশের সমুদ্র সীমা ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে’ দেখা যায়।

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড হচ্ছে একটি ১৪ কিলোমিটার ব্যাপী বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রের গীরিখাত। প্রাণ সম্পদের গুরুত্ব বুঝে ২০১৪ সালে ২৭ অক্টোবর এই এলাকাকে মেরিন সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে গেজেট করা হয় এবং বনবিভাগের অধীন। অন্যতম কারণ সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে বাস করে তিমি, ডলফিনসহ নানান জলজ প্রাণ।

এদিকে হিসেব বলছে ২০১৮ সালে মে মাসে কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসে মৃত বড় আকারের একটি ব্রাইডস হোয়েল। এরপর গতবছর ২০২০ জানুয়ারীতে সেন্টমার্টিন উপকূল ঘেঁষে সাগরে ভাসতে দেখা যায় আরও একটি মৃত ব্রাইডস হোয়েল। তারপর ৬ মাস না পেরুতে জুন মাসের মাঝামাঝিতে টেকনাফে আরও একটি ব্রাইডস হোয়েল ভেসে আসে। এই বছর আজ ৯ এপ্র্রিল ২০২১ দরিয়ানগর কক্সবাজারে ভেসে এলো মৃত অরেকটি ব্রাইডস।

এইসব মৃত তিমি কোথায় থেকে আসছে নাকি সোয়াচ থেকে মরে ভেসে আসছে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। তথাকথিত মনগড়া কোন পোস্টমর্টেম ও তদন্ত প্রতিবেদন দিলে হবেনা। এইসব প্রাণী হত্যার ক্ষেত্রে প্রায় দেখা যায় বা তদন্তে লেখা থাকে হার্ট এ্যাটাক, হিট ষ্ট্রোক, বয়স্ক, বার্ধক্য জনিত রোগসহ আরও কিছু। এতো তালবাহানা না করে জেলেদের জালে অথবা কিভাবে একের পর এক প্রাণীগুলো মারা যায় তা খুঁজে বের করতে হবে।

বছর তিনেক আগে গবেষণার কাজের সঙ্গী হয়ে সোয়াচে যেতে হয়েছিল। সেখানে দেখা গেছে গুলিস্থানের হকাররা যেভাবে যত্রতত্র দোকান নিয়ে বসেন তুলনা করলে সোয়াচে মাছ ধরতে তেমনি দোকান বসে। ছোট একটি জায়গা যার পরিধি ১৪ কিমি অথচ সেখানে ভীড় করছে শতশত কর্মাশিয়াল ও উডেন বোট। দিনরাত চলে ফিশিং।

এদিকে সেই সোয়াচে জায়গা জুড়ে রয়েছে ব্রাইডস হোয়েল বা তিমি ও বড় বড় ডলফিনে ঝাঁক। আমি নিজের চোখে সোয়াচে দেখেছি বাচ্চাসহ একটি বড় তিমি। দিনরাত যদি ফিশিং হয় তাহলে সেখানে বাস করা তিমি, ডলফিন, কাছিমসহ নানান জলজ প্রাণ কিভাবে থাকবে? অথচ সংরক্ষিত এলাকা বলতে আমরা যা বুঝি তার ০.১ পারসেন্ট কোন নজরদারি রয়েছে কি ? সংরক্ষিত এলাকাতে তো মাছ শিকারে প্রবেশ করার তো সুযোগ নেই। তাহলে ব্ল ইকনোমি ও এসডিজি গোল-১৪ কিভাবে হয়।

শুধু তাই নয় কাঠের বোটের ৬০ ফুট লম্বা আর কর্মাশিয়াল ফিশিং বোটে প্রায় ২০০ ফুট লম্বা নানান আকৃতির জাল ফেলা হয় সাগরগর্ভে। সেই জাল যে শুধু এদেশের তা নয় বরং সুযোগে যুগ যুগ ধরে অন্যদেশের জেলেরা জাল নিয়ে সোয়াচে মাছ ধরে চলেছে দিনের পর দিন। যদিও নৌবাহিনী কোস্টগার্ড নজরদারী করে কিন্তু কতটুকু করা সম্ভব!

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular