1. mahmudhasanrabbi8@gmail.com : Mahmud Hasan Rabbi : Mahmud Hasan Rabbi
  2. news.nittosongbad@gmail.com : NSYasinArafat : Yasin Arafat
উমাইয়া খিলাফতের ইতিহাস | The Umayyad Caliphate History » নিত্য সংবাদ
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম

উমাইয়া খিলাফতের ইতিহাস | The Umayyad Caliphate History

  • Update Time : রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১
  • ৩৪ Time View
উমাইয়া খিলাফতের ইতিহাস। ইসলামের ২য় খেলাফতের ইতিহাস

উমাইয়াদ ছিলেন প্রথম মুসলিম রাজবংশঅর্থাৎ, তারা তাদের পরিবারের মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ইসলামী সাম্রাজ্যের প্রথম শাসক ছিলেন

উমাইয়া সাম্রাজ্য (আরবি): الخلافة الأموية‎‎, Trans: Al-Ḫilāfa al-ʾumawiyya) ইসলামের প্রধান চারটি সাম্রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় সাম্রাজ্য। এটি উমাইয়া রাজবংশকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান গণি (রাঃ) খিলাফত লাভের মাধ্যমে উমাইয়া পরিবার প্রথম ক্ষমতায় আসে। তবে উমাইয়া বংশের শাসন হযরত আমির মুয়াবিয়া (রাঃ) কর্তৃক সূচিত হয়। তিনি দীর্ঘদিন সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন। ফলে সিরিয়া উমাইয়াদের ক্ষমতার ভিত্তি হয়ে উঠে এবং দামেস্ক তাদের রাজধানী হয়। উমাইয়ারা মুসলিমদের বিজয় অভিযান অব্যাহত রাখে। ককেসাস, ট্রান্সঅক্সানিয়া, সিন্ধু, মাগরেব ও ইবেরিয়ান উপদ্বীপ (আন্দালুস) জয় করে মুসলমান বিশ্বের আওতাধীন করা হয়। সীমার সর্বোচ্চে পৌছালে উমাইয়া খিলাফত মোট ৫.৭৯ মিলিয়ন বর্গ মাইল (১,৫০,০০,০০০ বর্গ কিমি.) অঞ্চল অধিকার করে রাখে। তখন পর্যন্ত বিশ্বের দেখা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে এটি সর্ববৃহৎ ছিল। অস্তিত্বের সময়কালের দিক থেকে এটি ছিল পঞ্চম।

 কিছু মুসলিমের কাছে উমাইয়াদের কর সংগ্রহ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা অনৈতিক ঠেকে। অমুসলিম জনগণ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করত এবং তাদের বিচারিক কার্যক্রম তাদের নিজস্ব আইন ও ধর্মীয় প্রধান বা নিজেদের নিযুক্ত ব্যক্তি দ্বারা চালিত হত। তাদের কেন্দ্রীয় সরকারকে জিজিয়া কর দিতে হত। বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবদ্দশায় বলেন যে প্রত্যের ধর্মীয় সম্প্রদায় নিজেদের ধর্মপালন করবে ও নিজেদের শাসন করতে পারবে। এ নীতি পরবর্তীতেও বহাল থাকে।হযরত উমর ফারুক (রাঃ) কর্তৃক চালু হওয়া মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য কল্যাণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা চলতে থাকে। হযরত আমির মুয়াবিয়া (রাঃ) এর স্ত্রী মায়সুম (এজিদের মা) ছিলেন একজন খ্রিষ্টান। রাষ্ট্রে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে সম্পর্ক ভাল ছিল। উমাইয়ারা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে ধারাবাহিক যুদ্ধে জড়িত ছিল। গুরুত্বপূর্ণ পদে খ্রিষ্টানদের বসানো হয় যাদের মধ্যে কারো কারো পরিবার বাইজেন্টাইন সরকারে কাজ করেছিল। খ্রিষ্টানদের নিয়োগ অধিকৃত অঞ্চলে বিশেষত সিরিয়ার বিশাল খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর প্রতি ধর্মীয় সহিষ্ণুতার নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এ নীতি জনগণের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয় এবং সিরিয়াকে ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে স্থিতিশীল করে তোলে।

আরব গোত্রগুলোর মধ্যকার বিরোধের কারণে সিরিয়ার বাইরের প্রদেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বিশেষত দ্বিতীয় মুসলিম গৃহযুদ্ধ (৬৮০-৬৯২) ও বার্বার বিদ্রোহের (৭৪০-৭৪৩) সময়। দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধের সময় উমাইয়া গোত্রের নেতৃত্ব সুফয়ানি শাখা থেকে মারওয়ানি শাখার হস্তান্তর হয়। ক্রমাগত যুদ্ধবিগ্রহের ফলে সম্পদ ও লোকবল কমে আসায় তৃতীয় মুসলিম গৃহযুদ্ধের সময় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চূড়ান্তভাবে আব্বাসীয় বিপ্লবের ফলে ক্ষমতাচ্যুত হয়। পরিবারের একটি শাখা উত্তর আফ্রিকা হয়ে আন্দালুস চলে যায় এবং সেখানে উমাইয়া সাম্রাজ্য (আন্দালুস) প্রতিষ্ঠা করে। এ খিলাফত ১০৩১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল এবং আন্দালুসের ফিতনার পর এর পতন হয়।

ইতিহাস

মুয়াবিয়ার রাজবংশ “সুফয়ানি” (আবু সুফিয়ানের বংশধর) ৬৬১ থেকে ৬৮৪ পর্যন্ত শাসন করে। মুয়াবিয়ার শাসনকালকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বাহ্যিক বিস্তৃতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সাম্রাজ্যের ভেতরে শুধু একটি বিদ্রোহের রেকর্ড আছে। হুজর ইবনে আদি কুফ্যার এই বিদ্রোহ করেন। হুজর ইবনে আদি নিজের আলির বংশধরদের খিলাফতের দাবিদার বলে সমর্থন জানান। কিন্তু ইরাকের গভর্নর জিয়াদ ইবনে আবু সুফিয়ান তার আন্দোলন সহজেই দমন করেন।

মুয়াবিয়া সিরিয়ার খ্রিষ্টানদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে উৎসাহিত করেন এবং তার একজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন জন অব ডেমাস্কাসের পিতা সারজুন। একই সময় তিনি বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধ চালিয়ে যান। তার শাসনামলে রোডস ও ক্রিট অধিকৃত হয় এবং কনস্টান্টিনোপলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আক্রমণ পরিচালিত হয়। ব্যর্থ হওয়ার পর এবং বড় ধরনের খ্রিষ্টান উত্থানের ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি বাইজেন্টাইনদের সাথে শান্তি অবস্থায় আসেন। মুয়াবিয়া উত্তর আফ্রিকা (কাইরাওয়ানের প্রতিষ্ঠা) ও মধ্য এশিয়া (কাবুল, বুখারা ও সমরকন্দ জয়) সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।

৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তার পুত্র প্রথম ইয়াজিদ তার উত্তরাধিকারি হন। অনেক নামকরা মুসলিম ইয়াজিদের ক্ষমতালাভের বিরোধী ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মুহাম্মদ এর এক সাহাবির ছেলে আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের ও চতুর্থ খলিফার পুত্র হুসাইন ইবনে আলি। ফলশ্রুতিতে ঘটে যাওয়া সংঘাত দ্বিতীয় ফিতনা বলে পরিচিত।

৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের মক্কার উদ্দেশ্যে মদিনা ত্যাগ করেন। ইয়াজিদের বিপক্ষে হুসাইনের অবস্থানের কথা শুনে কুফার জনগণ হুসাইনের কাছে তাদের সমর্থন নেয়ার জন্য আবেদন জানায়। হুসাইন তার চাচাত ভাই মুসলিম বিন আকিলকে এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পাঠান। এ খবর ইয়াজিদের কাছে পৌছলে তিনি বসরার শাসক উবায়দুল্লাহ বিন জিয়াদকে কুফার জনগণকে হুসাইনের নেতৃত্বে সমবেত হওয়া থেকে নিবৃত্ত করার দায়িত্ব দেন। উবায়দুল্লাহ বিন জিয়াদ মুসলিম বিন আকিলের পাশে থাকে জনতাকে প্রতিহত করতে সক্ষম এবং তাকে গ্রেপ্তার করেন। উবায়দুল্লাহ বিন জিয়াদের উপর হুসাইনকে প্রতিহত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে শুনে মুসলিম বিন আকিল তাকে অনুরোধ করেন যাতে হুসাইনকে কুফায় না আসার ব্যাপারে জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়। তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং উবায়দুল্লাহ বিন জিয়াদ মুসলিম বিন আকিলকে হত্যা করেন। আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের আমৃত্যু মক্কায় থেকে যান। হুসাইন সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি তার পরিবারসহ কুফায় যাবেন। সমর্থনের অভাবের বিষয়ে তার এসময় জানা ছিল না। হুসাইন ও তার পরিবারকে ইয়াজিদের সেনাবাহিনী রুখে দেয়। এসময় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন আমরু বিন সাদ, শামার বিন জিয়ালজোশান ও হুসাইন বিন তামিম। তারা হুসাইন ও তার পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সাথে লড়াই করে হত্যা করে। হুসাইনের দলে ২০০ জন মানুষ ছিল যাদের অধিকাংশ ছিল নারী। এদের মধ্যে হুসাইনের বোন, স্ত্রী, মেয়ে ও তাদের সন্তানরা ছিল। নারী ও শিশুদেরকে যুদ্ধবন্ধী হিসেবে দামেস্কে ইয়াজিদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। হুসাইনের মৃত্যু ও তার পরিবারের বন্দী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জনগণের সমর্থন তার দিক থেকে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের বন্দী করে রাখা হয়। এরপর তাদের মদিনা ফিরে যেতে দেয়া হয়। বেঁচে যাওয়া একমাত্র পুরুষ সদস্য ছিলেন আলি ইবনে হুসাইন জয়নুল আবেদিন। অসুস্থতার কারণে কাফেলা আক্রান্ত হওয়ার সময় তিনি লড়াই করতে পারেননি।

মক্কায় অবস্থান করলেও হুসাইনের মৃত্যুর পর আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের আরো দুটি প্রতিপক্ষ দলের সাথে যুক্ত হন। এর একটি মদিনা ও অন্যটি বসরা ও আরবের খারিজিরা সংঘটিত করে। মদিনা ছিল হুসাইনসহ মুহাম্মদ ও তার পরিবারের বাসস্থান, তার মৃত্যু ও পরিবারের বন্দী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিরাট আকারে প্রতিপক্ষ সৃষ্টি হয়। ৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দে ইয়াজিদ আন্দোলন দমন করতে সেনাবাহিনী পাঠান। হাররাহর যুদ্ধে সেনারা মদিনার প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে। মদিনার মসজিদে নববী ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইয়াজিদের সেনারা এগিয়ে গিয়ে মক্কা অবরোধ করে। অবরোধের এক পর্যায়ে আগুনে কাবার ক্ষতি হয়। কাবা ও মসজিদে নববীর ক্ষতিসাধনের ঘটনা পরবর্তী ইতিহাসবিদদের কাছে বেশ সমালোচনার বিষয়ে পরিণত হয়।

অবরোধ চলার সময় ইয়াজিদ মৃত্যুবরণ করেন এবং উমাইয়া সেনারা দামেস্কে ফিরে আসে। আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের মক্কার নিয়ন্ত্রণ লাভ করেন। ইয়াজিদের পুত্র দ্বিতীয় মুয়াবিয়া (শাসনকাল ৬৮৩-৮৪) তার উত্তরসুরি হন কিন্তু সিরিয়ার বাইরে খলিফা হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন না। সিরিয়ার ভেতর দুটি দল তৈরী হয়, একটি হল কায়সদের দল, এরা আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়েরকে সমর্থন করত, আরেকটি হল কুদাদের দল যারা প্রথম মারওয়ানকে সমর্থন করত। মারওয়ানের সমর্থকরা মারজ রাহিতের যুদ্ধে বিজয়ী হয় এবং ৬৮৪ তে মারওয়ান খলিফার পদে আরোহণ করেন।

মারওয়ানের প্রথম কাজ ছিল এসময় ইসলামি বিশ্বের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে খলিফা হিসেবে স্বীকৃত আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়েরের বিদ্রোহী দলের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। মারওয়ান মিশর অধিকার করেন ও নয় মাস শাসন করার পর ৬৮৫ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

মারওয়ানের পর তার পুত্র আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান (শাসনকাল ৬৮৫-৭০৫) খলিফা হন। তিনি খিলাফতের উপর উমাইয়াদের কর্তৃত্ব সংহত করেন। তার শাসনের প্রথমদিকে কুফাভিত্তিক আল-মুখতারের বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। আল-মুখতার আলির আরেক পুত্র মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়াকে খলিফা হিসেবে দেখতে চাইতেন। তবে বিদ্রোহের সাথে ইবনুল হানাফিয়ার কোনো সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায় না। আল-মুখতারের সেনারা ৬৮৬তে উমাইয়াদের সাথে ও ৬৮৭তে আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়েরের সেনাদের সাথে লড়াই করে এবং পরাজিত হয়। ফলে তার বিদ্রোহের সমাপ্তি ঘটে। ৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া সেনারা পুনরায় ইরাক অধিকার করে ও একই বাহিনী মক্কা দখল করে। আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের হামলায় নিহত হন।

আবদুল মালিকের শাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল জেরুজালেমের ডোম অব দ্য রক নির্মাণ। লিখিত দলিলে অস্পষ্টতা থাকলেও সম্পূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ ৬৯২ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়েছে বলে ধরা হয়। অর্থাৎ এটি আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়েরের সংঘর্ষের সময় নির্মাণ করা হয়েছিল।

আবদুল মালিককে প্রশাসনকে কেন্দ্রিভুত করা ও আরবিকে সরকারি ভাষা করার কৃতিত্ব দেয়া হয়। তিনি স্বতন্ত্র মুসলিম মুদ্রা চালু করেন। ইতিপূর্বে বাইজেন্টাইন ও সাসানীয় মুদ্রা ব্যবহার হত। আবদুল মালিক বাইজেন্টানটিয়ামের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। সেবাস্টপলিসের যুদ্ধে বাইজেন্টাইনরা পরাজিত হয় এবং আর্মেনিয়া ও ককেসিয়ান ইবেরিয়ায় কর্তৃত্ব পুনপ্রতিষ্টা করা হয়।

আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর তার পুত্র প্রথম আল ওয়ালিদ (শাসনকাল ৭০৫-১৫) খলিফা হন। আল ওয়ালিদ একজন দক্ষ নির্মাতা ছিলেন। তিনি মসজিদে নববী ও দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেন।

আবদুল মালিক ও আল ওয়ালিদ উভয়ের শাসনের সময়কার একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। অনেক ইরাকি উমাইয়া শাসনের বিরোধি ছিল। শান্তি বজায় রাখার জন্য হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিরিয়া সেনাদের ইরাকে নিয়ে আসেন। নতুন গেরিসন শহর ওয়াসিতে তাদের স্থান দেয়া হয়। বিদ্রোহ দমনে এই সেনারা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আল ওয়ালিদের পর তার ভাই সুলায়মান ইবনে আবদুল মালিক (শাসনকাল ৭১৫-১৭) খলিফা হন। তার শাসনকালে কনস্টান্টিনোপল অবরোধ করা হয়। অবরোধ ব্যর্থ হলে বাইজেন্টাইন রাজধানী জয়ে আরবদের উৎসাহে ভাটা পড়ে। তবে অষ্টম শতকের প্রথম দুই দশক খিলাফত ক্রমাগতভাবে বিস্তৃত হচ্ছিল যা পশ্চিমে ইবেরিয়ান উপদ্বীপ থেকে পূর্বে ট্রান্সঅক্সানিয়া ও উত্তর ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

সুলায়মানের পর তার তুতো ভাই উমর ইবনে আবদুল আজিজ (শাসনকাল ৭১৭-২০) খলিফা হন। উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে তার স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে। তিনি একমাত্র উমাইয়া খলিফা যাকে প্রচলিত অর্থে সম্রাট হিসেবে নয় বরং প্রকৃত অর্থে খলিফা বিবেচনা করা হয়।

উমরকে অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য কৃতিত্ব দেয়া হয়। উমাইয়া শাসনের সময় অধিকাংশ জনতা ছিল খ্রিষ্টান, ইহুদি, জরস্ট্রিয়ান ও অন্যান্য ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের। এই ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয়নি। তাদেরকে জিজিয়া নামক কর দিতে হত। এ কর মুসলিমদের উপর ছিল না। ফলে রাজস্ব সংগ্রহের দিক থেকে ব্যাপকভাবে ইসলাম গ্রহণ সমস্যার সৃষ্টি করছিল। কিছু বিবরণী থেকে জানা যায় প্রাদেশিক শাসকরা ধর্মান্তরে নিরুৎসাহিত করছিলেন। উমর কিভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন তা স্পষ্ট না, কিন্তু সুত্র মতে তিনি আরব ও অনারবদের প্রতি একই নীতি অবলম্বন করেন এবং ইসলাম গ্রহণের পথে বাধা অপসারণ করেন।

উমরের মৃত্যুর পর আবদুল মালিকের আরেক পুত্র দ্বিতীয় ইয়াজিদ (শাসনকাল ৭২০-২৪) খলিফা হন। ইয়াজিদ খিলাফতের সীমানার ভেতরের খ্রিষ্টান ছবি মুছে ফেলার আদেশ দেন। ৭২০ এ ইরাকে ইয়াজিদ ইবনুল মুহাল্লাবের নেতৃত্ব আরেকটি বড় আকারের বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।

ঐতিহ্য অনুযায়ী, উমাইয়াদ পরিবার (বনু আবদ-শামস নামেও পরিচিত) এবং মুহাম্মদ (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আশীর্বাদ) উভয়ে একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ আব্দ মান্ফ ইবনে কুসাই থেকে নেমে এসেছিলেন এবং তারা মূলত মক্কার শহর থেকে এসেছিলেন। । মুহাম্মদ (আঃ) তাঁর পুত্র হাশিমের মাধ্যমে আব্দ মানফের বংশধর ছিলেন এবং উমাইয়াদের অন্য ছেলে আবদ শামসের ছেলে আবদ মানফের বংশধর ছিলেন, যার পুত্র উমাইয়া ছিলেন। তাই দুটি পরিবার একই গোত্রের (যথাক্রমে কুরাইশের) বিভিন্ন গোত্র (যথাক্রমে হাশিম ও উমাইয়া) বলে বিবেচিত হয়।

উমাইয়া রাজ্যের রাজধানী দামেস্কের ক্ষমতার বদলে ইসলামী ইতিহাসের উন্নয়নে গভীর প্রভাব রয়েছে। এক জিনিস, এটি একটি যুগের শেষের একটি নির্বোধ স্বীকৃতি ছিল। প্রথম চার খলিফার কোন ব্যতিক্রম ছাড়াই ছিল নবী-সহীহ, আন্তরিক পুরুষ যারা তাদের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে বাস করতেন না এবং যারা জয়ী অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের সঙ্কট সত্ত্বেও তাদের পূর্বপুরুষদের সাধারণ অভ্যাসকে সংরক্ষণ করেছিল। এমনকি ‘Uthman, যার নীতি যেমন বিভেদমূলক প্রভাব ছিল, মূলত এই এর চেয়ে পরবর্তী জগতের উদ্বেগ আরো নিখুঁত। দামাস্কাসের পরিবর্তনের সাথে অনেক পরিবর্তন হয়।

ইসলামের প্রারম্ভিক দিনগুলিতেইসলামী শাসনের সম্প্রসারণ ঈশ্বরের বাক্যে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল। যদিও মুসলমানরা যখন শক্তি ব্যবহার করে তখন তারা তাদের শত্রুদেরকে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করে না। বিপরীতভাবে, মুসলিমরা খ্রিস্টান ও ইহুদীদেরকে তাদের নিজের বিশ্বাস অনুশীলন করার অনুমতি দিয়েছিল এবং ইসলামে বহুসংখ্যক রূপান্তর ছিল একটি বিশ্বাসের প্রকাশ যা সহজ এবং উদ্দীপক ছিল।

উমাইয়াদের আগমনের সাথে সাথে ধর্মনিরপেক্ষ উদ্বেগের বিষয়গুলি এবং সেই সময়ে কি কি ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত সমস্যা ছিল, খলিফাদের মনোযোগের উপর বড় সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে, তা প্রায়ই ধর্মীয় চেতনার ব্যয়বহুল ছিল – এমন একটি উন্নয়ন যা বিরক্তিকর অনেক ধর্মীয় মুসলমান এই বলে যে ধর্মীয় মূল্যবোধ উপেক্ষা করা হয় না; বিপরীতভাবে, তারা শতাব্দী ধরে শক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু তারা সর্বদা এগিয়ে আসেননি এবং মুয়াবিয়ার সময় থেকে “বিশ্বাসের প্রতিরক্ষা” হিসাবে খলিফার ভূমিকা ক্রমবর্ধমানভাবে তাকে প্রতিটি জাতির ইতিহাসের এত বেশি কর্তৃত্বের বিশুদ্ধ ধর্মনিরপেক্ষ উদ্বেগের প্রতি মনোযোগ দেবার প্রয়োজন মনে করে।

মুয়াবিয়া একজন সক্ষম প্রশাসক ছিলেন, এমনকি তার সমালোচকরাও স্বীকার করেন যে তিনি উচ্চতর মানের হিলের মান অর্জন করেছেন – একটি গুণ যা “সভ্য সংহতি” হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে এবং যা তিনি একবার এই শব্দে বর্ণনা করেছেন:

তবুও মুয়াবিয়াহ বিরোধী দলকে তার শাসনের সাথে সমন্বয় করতে পারে না এবং শিয়াদের সাথে সংঘাতের সমাধানও করতে পারে না। মুয়াবিয়ারা জীবিত থাকলেও এই সমস্যাগুলি নিরবচ্ছিন্ন ছিল না, কিন্তু 680 সালে মারা যাওয়ার পর ‘আলীর পক্ষিদল একটি জটিল কিন্তু অবিচলিত সংগ্রামের সৃষ্টি করে যা পরবর্তী সত্তর বছর ধরে উমাইয়াদের বাড়িতে এবং উত্তর আফ্রিকাতে ছড়িয়ে পড়ে। স্পেন।

তবে উমাইয়াদের পক্ষে ডিগ্রি স্থায়ীত্ব অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল, বিশেষ করে ‘আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ান 685 সালে খলিফার পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর উমাইয়াদের মতো যারা পূর্বে ছিলেন।’ আবদুল মালিককে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উৎসর্গ করতে বাধ্য করা হয়েছিল তার রাজনৈতিক সমস্যাগুলির শাসন কিন্তু তিনি অনেক প্রয়োজনীয় সংস্কারের সাথে পরিচিত হন। তিনি তিগ্রিস-ইউফ্রেটিস উপত্যকায় শুকনো খালের পরিষ্কার ও পুনঃনির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন – সুমেরীয়দের সময় থেকে মেসোপটেমিয়ায় সমৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ দিক – নদী পার্শ্ববর্তী ভারতীয় মরুভূমিতে ভারতীয় জলবায়ু ব্যবহারের প্রবর্তন করে এবং একটি মুদ্রা তৈরি করে যা বাইজেন্টাইন এবং সাসানীয় কয়েনের পরিবর্তে, তখন পর্যন্ত প্রচলন একমাত্র মুদ্রা। ‘সরকারী সংস্থার আব্দুল মালিকের সংগঠনও গুরুত্বপূর্ণ ছিল; এটি ‘আব্বাসিদের এবং তাদের উত্তরাধিকারী রাজ্যের পরে বিস্তৃত আমলাতন্ত্রের জন্য একটি মডেল প্রতিষ্ঠিত। নির্দিষ্ট সংখ্যক সংস্থাগুলি বেতন রেকর্ড পালন করার অভিযোগে ছিল; অন্যদের ট্যাক্স সংগ্রহ সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট ‘আবদ আল মালিকি দূরবর্তী ফ্লং সাম্রাজ্য জুড়ে তার যোগাযোগ দ্রুততর করার জন্য ডাক রুট একটি সিস্টেম প্রতিষ্ঠিত। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তিনি গ্রীক এবং পাহলভি প্রতিস্থাপিত, প্রশাসন ভাষা হিসাবে আরবি চালু করেন।

‘আব্দুল মালিকের অধীনে, উমাইয়াদরা এখনো আরও এগিয়ে আছে ইসলামী শক্তি। পূর্বে তারা তাদের প্রভাব তাদের আজকের সোভিয়েত ইউনিয়নের ওক্সাসস নদীতে উত্তর অঞ্চলে ট্রান্সক্সানিয়াতে প্রসারিত করেছিল এবং চীনের সীমানার কাছে পৌঁছেছিল। পশ্চিমে, তারা ‘উকবা ইবনে নাফি’ নেতৃত্বে প্রচারাভিযানের ধারাবাহিকতায়, উত্তর আফ্রিকায় নিয়ে যায়, যারা কায়রান শহর প্রতিষ্ঠা করেছিল – এখন কি তায়েনিসিয়া – এবং এখান থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে সমস্ত পথ ঘিরে রয়েছে।

এই আঞ্চলিক অর্জনগুলি আরবদের পূর্বে অজানা জাতিগত গোষ্ঠীগুলির সাথে যোগাযোগ করেছিল যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং পরবর্তীতে ইসলামী ইতিহাসের পথকে প্রভাবিত করবে। উদাহরণস্বরূপ উত্তর আফ্রিকার বারবারস, যিনি আরব শাসনের বিরোধিতা করেছিলেন কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, পরে মুসা ইবনে নুসায়ের ও তার সাধারণ সম্পাদক তরিক ইবনে জিয়াদের সাথে স্পেনের জিব্রাল্টার স্ট্রিট অবধি পার করে দিয়েছিলেন। পরে বারবার বারবার উত্তর আফ্রিকাতে সংস্কার আন্দোলন শুরু করে, যা ইসলামিক সভ্যতাকে প্রভাবিত করে। পূর্বদিকে, ট্রান্সক্সিয়াতে উমাইয়াদ শাসন করে তুর্কিরা আরবদের সাথে পরিচিতি লাভ করে, যারা বারবারের মত ইসলাম গ্রহণ করে এবং সময়ের সাথে সাথে তার দৃঢ় রক্ষাকর্তা হয়ে ওঠে। উমাইয়া সম্প্রসারণ ভারতের প্রাচীন সভ্যতাতে পৌঁছেছে, যার সাহিত্য ও বিজ্ঞান ব্যাপকভাবে ইসলামিক সংস্কৃতির সমৃদ্ধ।

ইউরোপে এদিকে, আরবরা স্পেনে প্রবেশ করে, উইসিগথকে পরাজিত করেএবং 713 সালের মধ্যে ফ্রান্সে নরফোন পৌঁছেছিল। পরের কয়েক দশক ধরে, অভিযানকারী দলগুলি ক্রমাগত ফ্রান্সে প্রবর্তন করে এবং 732 সালে প্যারিস থেকে 170 কিলোমিটার দূরে লিয়ের ভ্যালিতে পৌঁছায়। সেখানে, ট্যুরস বা পইটিয়ার যুদ্ধে, আরবরা অবশেষে চার্লস মার্টেলের দ্বারা ফিরে আসেন।

উমাইয়া খলিফার এক যিনি মহিমা অর্জন করেছিলেন ‘উমর ইবনে’ আব্দুল আযীয, তার পূর্বসূরিদের থেকে একজন মানুষ খুবই ভিন্ন। যদিও উমাইয়াদ পরিবারে একজন সদস্য, ‘উমরের জন্ম হয় এবং মদিনাতে উত্থাপিত হয়, যেখানে ধার্মিক পুরুষের সাথে তার প্রথম পরিচিতি তাকে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের জন্য একটি উদ্বেগ প্রদান করেছিল। উমাইয়াদ নীতি-বিশেষ করে পার্থিব লক্ষ্য অর্জনের কথা শুনে মদিনা ও অন্যান্য স্থানে ধর্মীয় লোকেরা উম্মতের ওপর হুমকি হয়ে গিয়েছিল, যারা তাদের পূর্বসুরীদের নীতি পরিবর্তন করে পরিবর্তিত করের উপর জরিমানা কর আদায় করে দেয়।

এই পদক্ষেপটি রাষ্ট্রীয় আয়ের উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, কিন্তু মহান উম্মর ইবনে আল খাত্তাবের দ্বিতীয় খলিফা এবং উমর ইবনে আব্দুল আযীযের মতো সরকারী নীতিমালাকে আরও লম্বা করার জন্য নির্ধারিত ছিল। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাসনব্যবস্থায়ও তাঁর শাসনের শত্রু ছিল না।

শেষ মহান উমাইয়া খলিফা হিশাম, ‘আব্দুল মালিকের চতুর্থ পুত্র খিলাফতকে সফল করার জন্য। তাঁর শাসন দীর্ঘ ছিল – 7২4 থেকে 743 পর্যন্ত – এবং এটির সময় আরব সাম্রাজ্য সর্ববৃহৎভাবে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি বা তার চারটি খলিফা যিনি সফল ছিলেন না, সেই সময়ের রাষ্ট্রপতিরাও দাবি করেছিলেন যে, যখন 747 খ্রিস্টাব্দে খোরসানে বিপ্লবীরা বিদ্রোহের কালো পতাকা ছড়িয়ে দিয়েছিল যে উমাইয়া রাজবংশের অবসান ঘটবে।

যদিও উমাইয়াদের তাদের নিজস্ব অঞ্চল সিরিয়ায় অনুপস্থিত ছিল, তাদের শাসন ছিল অর্জনের বাইরে নয়। মুসলিম বিশ্বের বেশিরভাগ সুন্দর বিদ্যমান ভবনগুলি তাদের জঘন্য ভবনগুলিতে নির্মিত হয়েছিল – যেমন দামাস্কাসের উমাইয়াজ মসজিদ, জেরুজালেমের গম্বুজের গম্বুজ এবং সিরিয়া, জর্ডান এবং ইরাকের মরুভূমিতে সুদৃশ্য দেশ প্রাসাদ। তারা একটি সুবিশাল এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ সাম্রাজ্যের জটিল সমস্যার মোকাবেলা করতে সক্ষম একটি আমলাতন্ত্র সংগঠিত, এবং আরবি সরকার এর ভাষা তৈরি। উমাইয়াদের পাশাপাশি এই লেখকদেরকে ‘আবদুল্লাহ ইবনে আল মুকফ্ফা’ এবং ‘আব্দ আল হামিদ ইবনে ইয়াহিয়া আল কাতিব, যাদের স্পষ্ট, এক্সপোজিটরি আরবী গদ্য খুব কমই অতিক্রম করা হয়েছে বলে উত্থাপিত হয়েছে।

উমাইয়াগণ, তাদের নেতৃত্বের নব্বই বছরের মধ্যেখুব কমই তাদের সাম্রাজ্যের খ্যাতিকে ভাস্কর্য হিসেবে ছিনিয়ে নিল – অর্থাৎ, একটি পার্থিব রাজত্ব – এবং রাজবংশের শেষ বছরগুলিতে তাদের প্রতিপক্ষরা একটি গোপন সংগঠন গঠন করে, যার সাহায্যে তাদের দমন করা হয় আল-আবেবস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর নবী হযরত মুহাম্মদ (সা।) এর একটি চাচা। দক্ষতার সাথে প্রস্তুতির মাধ্যমে, এই সংগঠনটি খোরসান ও ইরাকে বহু পারস্পরিক দ্বন্দ্বমূলক গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং আবু আল-আব্বাস খলীফা ঘোষণা করে। মারওয়ান ইবনে মুহাম্মাদ, শেষ উমাইয়া খলিফাকে পরাজিত করা হয় এবং অরামীয়রা এখনও উমাইয়াদদের প্রতি অনুগত, তাদেরকে দমন করা হয়।

আব্দুল মালেক (685-705 খ্রিস্টাব্দ) অধীনে উমাইয়া খিলাফত তার চূড়ায় পৌঁছেছেন। মুসলিম বাহিনী পশ্চিমের অধিকাংশ স্পেনকে পরাজিত করে ভারতে মুরাণ ও সিন্ধু আক্রমণ করে, মধ্য এশিয়ার মধ্যে খোরসানিয়ান বাহিনী বুখারার, সমরকন্দ, খারেজম, ফেরগানা ও তাশখন্দকে জয় করেছিল। আরবীয়করণের একটি বিস্তৃত প্রোগ্রামে, আরবি রাষ্ট্রীয় ভাষাভাষা হয়ে ওঠে; সাম্রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন করা হয়েছিল, আরবদের সাথে ফার্সি ও গ্রিক কর্মকর্তাদের বদলি; এবং একটি নতুন আরবী মুদ্রা বাইজেন্টাইন এবং সাশানিয়ান মুদ্রার প্রাক্তন অনুকরণে প্রতিস্থাপিত। দামাস্কাস থেকে প্রাদেশিক রাজধানীগুলিতে একটি নিয়মিত পোস্ট পরিষেবা চালু করার সাথে যোগাযোগগুলি উন্নত হয়েছে এবং স্থাপত্যের উন্নতি হয়েছে (উদাহরণস্বরূপ, খান; মরুভূমি প্রাসাদ, মিহরাব)।

বিজেন্তিন সম্রাট লিও III (ইশরিয়িয়ান; 717) সিরিয়ান সেনাবাহিনীর বিপর্যয়কর পরাজয়ের দ্বারা প্রত্যাখ্যানের শুরু হয়। তারপর ধার্মিক ‘উমর দ্বিতীয় (রাজতন্ত্র 717-7২২) রাজস্ব সংস্কারের ফলে জাতীয়তাবিহীন সকল মুসলমানকে একই স্তরে জাতীয়তাবোধ ছাড়িয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তুষ্ট মাওয়ালি (অ আরব মুসলিম )কে ক্ষমা করতে চেয়েছিল, যার ফলে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়, যখন পুনরাবৃত্তি ঘটে দক্ষিণের (কালব) এবং উত্তর (কিয়েস) আরব উপজাতির মধ্যকার দ্বন্দ্বগুলো গভীরভাবে সামরিক শক্তি কমিয়ে দেয়।

হিশাম ইবনে ‘আব্দ আল মালিক (সাম্রাজ্যবাদী শাসন 7২4-743) সাময়িকভাবে জোয়ার বাঁধতে সক্ষম ছিলেন। সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের সীমার মধ্যে পৌঁছেছিল- ফ্রান্সে মুসলিম অগ্রগামীদের নিরপেক্ষভাবে পোয়েটরিজ (732) এ থামানো হয়েছিল, এবং আনাতোলিয়ায় আরব বাহিনী (740) ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল – সিরিয়ার সৈন্যদের দ্বারা পরিচালিত সর্বাধিক নিরাপত্তা, তাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সংগঠিত হয়েছিল মধ্য এশিয়ার তুর্কি এবং উত্তর আফ্রিকার বারবার্স (ইমাজজি)। কিন্তু হিশামের মৃত্যুর পর, কয়েজ ও কালব এর মধ্যকার দ্বন্দ্ব সিরিয়া, ইরাক এবং খোরসনে (745-746) বড় বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়, যখন মওলির হাশিমিয়াহের সাথে জড়িত হয়েছিলেন, একটি ধর্ম-রাজনৈতিক দল যা বৈধতা অস্বীকার করেছিল উমাইয়াদ শাসনের 749 খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমা প্রদেশগুলির সহায়তায় হাশিমিয়াহ খলিফ আবু আল-আব্বাস আল-সাফার হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন, যার ফলে এবছস বংশের প্রথম ব্যক্তি হয়ে উঠেছিল।

শেষ উমাইয়াড, মারওয়ান দ্বিতীয় (744-750 খ্রিস্টাব্দ), গ্রেট জাব নদী (750) যুদ্ধে পরাজিত হয়। উমাইয়াদ হাউসের সদস্যরা শিকার এবং নিহত হয়, কিন্তু বেঁচে থাকা এক, ‘আবদ আল রামমেন পালেন এবং স্পেনের মুসলিম শাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন (756), কোদোবায় উমাইয়াদের রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।


উত্তরাধিকার

উমাইয়া খিলাফতের আঞ্চলিক সম্প্রসারণ ও প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যা উভয় দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল যে এই ধরনের সম্প্রসারণ সৃষ্টি করেছিল। কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রমের সত্ত্বেও, উমাইয়াদের পুরনো আরব পরিবারের অধিকার এবং বিশেষত তাদের নিজস্ব, নতুন রূপান্তরিত মুসলমানদের (মওলির) উপর নির্ভর করে। অতএব তারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অনেক কি তুলনায় ইসলামের একটি কম universalist ধারণা ধারণ। জি। আর। Hawting লিখেছেন, “ইসলাম আসলে বিজয়ী অভিজাতদের সম্পত্তি হিসাবে গণ্য করা হয়।”

উমাইয়াদের সময়কালে আরবি প্রশাসনিক ভাষা হয়ে ওঠে। রাজ্য নথি এবং মুদ্রা ভাষা জারি করা হয়। গণ অভ্যুত্থানগুলি খিলাফতের জন্য মুসলমানদের একটি বৃহৎ প্রবাহ আনা। উমাইয়াজগুলি জেরুজালেমে গোমতের গোমে এবং দামেস্কের উমাইয়া মসজিদে বিখ্যাত ভবন নির্মাণ করে।

এক সাধারণ দৃষ্টিতে উমাইয়াদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (রাশিদুনের সময়) থেকে খিলাফতকে একটি বংশগত এক হিসাবে রূপান্তরিত করে। তবে উমাইয়া খলিফারা মনে করে যে তারা নিজেদেরকে পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে এবং “ঈশ্বরের আইন-কানুনের সংজ্ঞা এবং সম্প্রসারণ, অথবা অন্য কোন শব্দে ইসলামী আইনের সংজ্ঞা বা সম্প্রসারণের জন্য দায়ী”।

উমাইয়াদের পরে ইসলামের ঐতিহাসিকদের কাছ থেকে বেশিরভাগ নেতিবাচক অভ্যর্থনা দেখা যায়, যারা সত্য খলিফার (খিলাফত) পরিবর্তে রাজপুত্রকে (প্রচারের সাথে যুক্ত করে) শব্দটি ব্যবহার করে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে উমাইয়া খলিফা নিজেরা খলিফাত রাসূলুল্লাহ (“আল্লাহর রসূলের উত্তরাধিকারী”, ঐতিহ্য দ্বারা অগ্রাধিকার দেওয়া শিরোনাম) নয় বরং খলিফাত আল্লাহ (“আল্লাহ্র উপাস্য”) হিসাবে উল্লেখ করেছেন। পার্থক্যটি ইঙ্গিত দেয় যে উমাইয়াদের “সমাজের প্রধান হিসেবে ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদেরকে গণ্য করে এবং তাদের ধর্মীয় শক্তিকে ভাগাভাগি করার বা ধর্মীয় পণ্ডিতদের আভ্যন্তরীণ শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করার প্রয়োজন নেই।” বস্ত্তত, এটি ঠিক ছিল মূলত ইরাকের উপর ভিত্তি করে পণ্ডিতদের এই শ্রেণী, যে ঐতিহ্য সংগ্রহ ও রেকর্ড করার দায়বদ্ধ ছিল যা উমাইয়াদ যুগের ইতিহাসের প্রাথমিক উৎস উপাদান। এই ইতিহাস পুনর্গঠন, তাই, মূলত উত্স উপর নির্ভর করা প্রয়োজন, যেমন Tabari এবং Baladhuri ইতিহাস, যে বাগদাদে আব্বাসীয় আদালতে লিখিত ছিল।

আধুনিক আরব জাতীয়তাবাদ উমাইয়াদের যুগের আরব গোল্ডেন এজের অংশ হিসেবে বিবেচিত, যা এটি অনুকরণ এবং পুনঃস্থাপন করার চেষ্টা করেছিল। সিরিয়ার জাতীয়তাবাদ এবং বর্তমান-বর্তমান সিরিয়ার রাষ্ট্র বিশেষত সত্য, দামাস্কাসের উমাইয়াদের মতো কেন্দ্রবিন্দু। হোয়াইট, চারটি প্যান-আরব রংগুলির মধ্যে একটি, যা বেশিরভাগ আরব দেশগুলির পতাকাগুলিতে বিভিন্ন সংমিশ্রণে প্রদর্শিত হয়। উমাইয়াদের প্রতিনিধিত্ব হিসাবে

উৎপত্তি

উমাইয়া পরিবার (বনু আবদ শামস নামেও পরিচিত) ও মুহাম্মদ (সা.) উভয়েই আবদ মানাফ ইবনে কুসাইয়ের বংশধর এবং তারা মক্কার অধিবাসী ছিলেন। আবদ মানাফের পুত্র হাশিমের বংশে মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। অন্যদিকে উমাইয়ারা আবদ মানাফের আরেক পুত্র আবদ শামশের বংশধর। উমাইয়া আবদ শামসের পুত্রের নাম। দুই পরিবার নিজেদের একই বংশ কুরাইশের দুটি ভিন্ন গোত্র হিসেবে বিবেচনা করত (যথাক্রমে হাশিম ও উমাইয়া)। শিয়াদের মতে উমাইয়া আবদ শামসের পালক পুত্র তাই তার সাথে আবদ শামসের কোনো রক্ত সম্পর্ক নেই। উমাইয়ারা পরবর্তীতে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সম্মান হারায়।

উমাইয়া ও হাশিমিদের মধ্যে মুহাম্মদ এর আসার পূর্ব থেকেই দ্বন্দ্ব চলছিল। বদরের যুদ্ধের পর তা আরো বিরূপ অবস্থায় পড়ে। এ যুদ্ধে উমাইয়া গোত্রের তিনজন শীর্ষ নেতা উতবা ইবনে রাবিয়াহ, ওয়ালিদ ইবনে উতবাহ ও শায়বা দ্বন্দ্বযুদ্ধের সময় হাশিমি গোত্রের আলী ইবন আবী তালিব, হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব ও উবাইদাহ ইবনুল হারিসের হাতে নিহত হয়। এ ঘটনার ফলে উমাইয়ার নাতি আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের মুহাম্মদ ও ইসলামের প্রতি বিরোধিতার মাত্রা আরো বৃদ্ধি পায়। বদর যুদ্ধের একবছর পর আবু সুফিয়ান আরেকটি যুদ্ধ মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিয়ে মদিনার মুসলিমদের উপর প্রতিশোধ নিতে চাইছিলেন। পন্ডিতদের মতে এই যুদ্ধটি মুসলিমদের প্রথম পরাজয় যেহেতু এখানে মক্কার তুলনায় মুসলিমদের ভালো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধের পর আবু সুফিয়ানের স্ত্রী ও উতবা ইবনে রাবিয়ার মেয়ে হিন্দ হামজার লাশ কেটে তার কলিজা বের করে খাওয়ার চেষ্টা করে। উহুদের যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পাঁচ বছর পর মুহাম্মদ মক্কা বিজয় করেন এবং সবার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। মক্কা বিজয়ের পর আবু সুফিয়ান ও তার স্ত্রী হিন্দ ইসলাম গ্রহণ করেন। এসময় তাদের পুত্র ও পরবর্তী খলিফা মুয়াবিয়াও ইসলাম গ্রহণ করেন।

অনেক ইতিহাসবিদের মতে খলিফা মুয়াবিয়া (শাসনকাল ৬৬১-৬৮০) রাজবংশীয় কায়দার প্রথম শাসক হলেও তিনি উমাইয়া রাজবংশের দ্বিতীয় শাসক। উমাইয়া গোত্রের সদস্য উসমান ইবনে আফ্‌ফানের খিলাফতের সময় উমাইয়া গোত্র ক্ষমতায় আসে। উসমান তার গোত্রের কিছু বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসান। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলেন উসমানের শীর্ষ পর্যায়ের উপদেষ্টা মারওয়ান ইবনুল হাকাম যিনি সম্পর্কে উসমানের তুতো ভাই ছিলেন। তার কারণে হাশিমি সাহাবিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরী হয় কারণ মারওয়ান ও তার পিতা আল-হাকাম ইবনে আবুল আসকে মুহাম্মদ মদিনা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছিলেন। উসমান কুফার গভর্নর হিসেবে তার সৎ ভাই ওয়ালিদ ইবনে উকবাকে নিযুক্ত করেন। হাশিমিরা তার প্রতি অভিযোগ করে যে তিনি মদপান করে নামাজের ইমামতি করেছিলেন। উসমান মুয়াবিয়াকে বিশাল এলাকার কর্তৃত্ব দিয়ে সিরিয়ার গভর্নর হিসেবে তার অবস্থান সংহত করেন এবং তার পালক ভাই আবদুল্লাহ ইবনে সাদকে মিশরের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন। উসমান নিজের কোনো উত্তরসুরি মনোনীত করে যাননি তাই তাকে রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ধরা হয় না।

৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে প্রথম মুয়াবিয়া সিরিয়ার গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন। এসময় আরো ২৫,০০০ মানুষ প্লেগে মারা যায়। আরব-বাইজেন্টাইন যুদ্ধের সময় সমুদ্রের দিক থেকে বাইজেন্টাইন আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য ৬৪৯ খ্রিষ্টাব্দে মুয়াবিয়া মনোফিসিট খ্রিষ্টান, কপ্ট ও জেকোবাইট সিরিয়ান খ্রিষ্টান নাবিক ও মুসলিম সৈনিকদের নিয়ে একট নৌবাহিনী গড়ে তোলেন। ৬৫৫ তে মাস্তুলে যুদ্ধে বাইজেন্টাইন নৌবাহিনী পরাজিত হয় এবং ভূমধ্যসাগরের দিক উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।

প্রথম মুয়াবিয়া একজন সফল গভর্নর ছিলেন। তিনি সাবেক রোমান সিরিয়ান সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি অনুগত ও নিয়মানুবর্তী বাহিনী গড়ে তোলেন। তিনি আমর ইবনুল আসের বন্ধু ছিলেন। আমর ইবনুল আস মিশর জয় করেন ও পরবর্তীকালে খলিফা তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।

কুরআনে ও মুহাম্মদ এর হাদিসে জাতিগত সমতা ও ন্যায়বিচারের ব্যাপারে উল্লেখ করা আছে এবং বিদায় হজ্জের ভাষণেও তিনি একথা বলেন। গোত্রীয় ও জাতিভিত্তিক পার্থক্যকে নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু মুহাম্মদ এর মৃত্যুর পর পুরনো গোত্রীয় ভেদাভেদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। রোমান-পারসিয়ান যুদ্ধ ও বাইজেন্টাইন-সাসানীয় যুদ্ধের পর পূর্বে সাসানীয় সাম্রাজ্য কর্তৃক শাসিত ইরাক ও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য কর্তৃক সিরিয়ার মধ্যকার বিরোধ তখনও বহাল ছিল। প্রত্যেকেই নতুন প্রতিষ্ঠিত ইসলামি রাষ্ট্রের রাজধানী নিজেদের অঞ্চলে পেতে আগ্রহী ছিল। পূর্ববর্তী খলিফা উমর গভর্নরদের ব্যাপারে খুবই সতর্ক ছিলেন এবং তার গোয়েন্দারা তাদের উপর নজর রাখত। গভর্নর বা কমান্ডাররা সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে উঠছে এমন প্রতীয়মান হলে তিনি তাদেরকে তাদের অবস্থান থেকে সরিয়ে দিতেন।

প্রথমদিকের মুসলিম সেনারা শহর থেকে দূরে নিজস্ব ক্যাম্পে অবস্থান করত। উমরের ভয় ছিল যে তারা হয়ত সম্পদ ও বিলাসিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে এবং এর ফলে তারা আল্লাহর ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে এবং সম্পদ গড়ে তুলতে পারে ও রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।উসমান ইবন আফ্‌ফান যখন খুবই বৃদ্ধ হয়ে পড়েন প্রথম মুয়াবিয়ার আত্মীয় প্রথম মারওয়ান তার সচিব হিসেবে শূণ্যস্থান পূরণ করেন এবং এসব কঠোর নিয়মে শিথিলতা আনেন। মারওয়ানকে ইতিপূর্বে দায়িত্বপূর্ণ পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর কিছু মিশরীয়কে খলিফা উসমানের বাসগৃহ দেখিয়ে দেন। পরে এই মিশরীয়রা খলিফা উসমানকে হত্যা করে।

উসমানের হত্যাকান্ডের পর আলি খলিফা নির্বাচিত হন। তাকে এরপর বেশ কিছু সমস্যা সামাল দিতে হয়। আলি মদিনা থেকে কুফায় রাজধানী স্থানান্তর করেন। ৬৫৬ থেকে ৬৬১ পর্যন্ত চলমান সংঘাতকে প্রথম ফিতনা (“গৃহযুদ্ধ”) বলে ডাকা হয়। সিরিয়ার গভর্নর ও খলিফা উসমানের আত্মীয় মুয়াবিয়া চাইছিলেন যে হত্যাকারীদের যাতে গ্রেপ্তার করা হয়। মারওয়ান সবাইকে প্ররোচিত করেন এবং সংঘাত সৃষ্টি করেন। মুহাম্মদ এর স্ত্রী আয়িশা এবং তার দুই সাহাবি তালহা ও যুবাইর ইবনুল আওয়াম দোষীদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আলিকে বলতে বসরা যান। মারওয়ান ও অন্যান্য যারা সংঘাত চাইছিল তারা সবাইকে লড়াই করতে প্ররোচিত করে। উটের যুদ্ধে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই হয়। এ যুদ্ধে আলি বিজয় অর্জন করেন।

এ যুদ্ধের পর আলি ও মুয়াবিয়ার মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধ হয়। কোনো এক পক্ষে বিজয়ী হওয়ার আগেই যুদ্ধ থেমে যায় এবং দুপক্ষে বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে একমত হয়। যুদ্ধের পর আমর ইবনুল আস মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে ও আবু মুসা আশয়ারি আলির পক্ষ থেকে আলোচক নিযুক্ত হন। সাত মাস পর ৬৫৮ এর ফেব্রুয়ারিতে আধরুহ নামক স্থানে সাক্ষাত করেন। আমর ইবনুল আস আবু মুসা আশয়ারিকে এ মর্মে রাজি করান যে দুপক্ষই লড়াই বন্ধ করবে এবং একজন নতুন খলিফা নিযুক্ত করা হবে। আলি ও তার সমর্থকরা এ সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে যান। এ ঘটনা মুয়াবিয়ার কাছে খলিফার মর্যাদা কমানোর সমতুল্য ছিল। আলি এ সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানালেও মীমাংসা মেনে নেয়ার ব্যাপারে নিজেকে বাধ্য অবস্থায় দেখতে পান। এর ফলে আলির অবস্থান তার নিজের সমর্থকদের মধ্যেও দুর্বল হয়ে পড়ে। আলির সমর্থকদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে চাপ সৃষ্টিকারীরা ছিল সবচেয়ে কঠোর প্রতিবাদকারী। তারা আলির বাহিনী থেকে বের হয়ে যায় এবং “একমাত্র আল্লাহর প্রতি” স্লোগান দিতে থাকে। এ দল খারিজি নামে পরিচিত হয়ে উঠে। ৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে নাহরাওয়ানের যুদ্ধে আলি ও খারিজিরা মুখোমুখি হয়। আলি যুদ্ধে জয়ী হলেও ক্রমাগত সংঘর্ষ তার অবস্থানের উপর প্রভাব ফেলছিল এবং পরবর্তী বছরগুলোতে কিছু সিরিয়ান মুয়াবিয়াকে বিদ্রোহী খলিফা হিসেবে ঘোষণা করে।

৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে আলি একজন খারিজির হাতে নিহত হন। সে বছর ছয় মাস পর হাসান ইবনে আলি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মুয়াবিয়ার সাথে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেন। হাসান-মুয়াবিয়া চুক্তি মোতাবেক হাসান মুয়াবিয়াকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন এ শর্তে যে তিনি জনগণের প্রতি ন্যায়ানুগ আচরণ করবেন, তাদের নিরাপদ রাখবেন এবং নিজের মৃত্যুর পর কোনো রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করবেন না।এ ঘটনার ফলে খুলাফায়ে রাশেদীনের শাসনের অবসান হয়। এরপর মুয়াবিয়া চুক্তির বাইরে গিয়ে উমাইয়া রাজবংশের সূচনা করেন এবং দামেস্কে রাজধানী স্থাপন করেন।

৬৮০ তে মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার নিয়ে পুনরায় সংঘাত শুরু হয় যা দ্বিতীয় ফিতনা নামে পরিচিত। ব্যাপক লড়াইয়ের পর উমাইয়া রাজবংশ প্রথম মারওয়ানের হাতে এসে পড়ে।

৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে রাজবংশের পতনের আগ পর্যন্ত সিরিয়ে উমাইয়াদের খলিফার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তবে উমাইয়ারা কর্ডোবাতে (আল আন্দালুস, বর্তমান পর্তুগাল ও স্পেন) আমিরাত হিসেবে ও পরবর্তীকালে খিলাফত হিসেবে ১০৩১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল। ইবেরিয়ান উপদ্বীপে মুসলিম শাসন পরবর্তী ৫০০ বছর বিভিন্ন রূপে টিকে ছিল যেমন, তাইফা, বার্বার রাজ্য ও গ্রানাডা রাজ্য।

৭১২ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ইন্দুজ নদীসহ সিন্ধু ও পাঞ্জাব অঞ্চল জয় করেন। সিন্ধু ও পাঞ্জাবের জয় উমাইয়া খিলাফতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজয় ছিল। রাজস্থানের যুদ্ধের পর সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া থেমে যায়। আরবরা ভারত আক্রমণের চেষ্টা করে কিন্তু উত্তর ভারতের রাজা নাগাভাতা ও দক্ষিণ ভারতের সম্রাট দ্বিতীয় বিক্রমাদিত্য তাদের পরাজিত করেন। আরব লেখকদের ভাষ্যমতে এরপর খলিফা মাহদি ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা বাদ দেন।

পরবর্তী বছরগুলোতে এবং বিশেষত ১০৩১ খ্রিষ্টাব্দে ইবেরিয়ার তাইফা পদ্ধতির আওতায় গ্রানাডা আমিরাত স্বাধীনতা বজায় রাখে। উত্তরের খ্রিষ্টান রাজ্যগুলোকে কর প্রদানের মাধ্যমে তারা টিকে ছিল। ১০৩১ থেকে তারা দক্ষিণে বিস্তৃত হতে শুরু করে।

১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২ জানুয়ারি কর্ডোবার নাসরি রাজ্যের পতনের মাধ্যমে ইবেরিয়ায় মুসলিম শাসনের সমাপ্তি হয়। গ্রানাডার শেষ মুসলিম শাসক দ্বাদশ মুহাম্মদ যিনি বোয়াবদিল নামে পরিচিত, আরাগনের রাজা দ্বিতীয় ফার্ডিনেন্ড ও কাস্টিলের রাণী প্রথম ইসাবেলার কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Recent Posts

© All rights reserved © 2021 nittosongbad.com
Theme Customized By BreakingNews