Take a fresh look at your lifestyle.

স্ত্রী’রা হলো শস্যক্ষেত্র, এটা কি অশ্লীল আয়াত?

0

“তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও”। সূরা বাকারাহ : ২২৩ আয়াত।

যারা কুরআনের নানান দোষ খুজতে সর্বদা ব্যস্ত থাকে, বিশেষ করে কথিত নারীবাদীরা, তাদের জন্য এই আয়াতটি একটি মোক্ষম অস্ত্র! তাদের ভাষায় এটি অশ্লীল আয়াত।

আয়াতটির অনেক সুন্দর ব্যাখ্যা পাওয়া যায় প্রকৃত ইসলামী সুপণ্ডিতদের থেকে, তাই আমি শুধু চেষ্টা করবো আধুনিক শস্য ক্ষেত্রের সাথে স্ত্রী সামঞ্জস্যতা বা তুলনা নিয়ে। চলুন দেখা যাক-

দখলদার ইসরাইলের বিজ্ঞানীরা ফিলিস্তিনের দখলকৃত সকল কৃষিভূমি গুলোকে নতুন ভাবে তৈরি করেছে। আগের ভূমিগুলোতে খুব কষ্টেশিষ্টে কিছু জায়তুন তরমুজ বা শাকসবজি উৎপন্ন হত, পরিশ্রম বেশি হত। তাই তারা উপযোগী যন্ত্রপাতি বানালো এবং হাজার হাজার একর পাথুরে জমির মাটি চালুনি দিয়ে চালার মতো করে সকল পাথর বাহির করে ফেলল। তাদের চিন্তা ছিল খরচ এবং পরিশ্রম একবারই হোক, সারা জীবন ধরে নয় । তারপর তারা হাজার হাজার পেঁচা পাখি উৎপন্ন করলো এবং কয়েক’শ মিটার দূরে দূরে পেঁচার জন্য কৃত্রিম বাসা তৈরি করে দিল। মাটির নিচে দিয়ে পানির লাইন তৈরি করলো, জমির নিচে নেটওয়ার্ক লাইন তৈরি করলো এবং চাষের পর ফসল ভেদে মাটির কয়েক ইঞ্চি নিচে আর্দ্রতা সেন্সর লাগিয়ে দিল। বীজ লাগানোর পর চারা হলে মাটির প্রয়োজন অনুযায়ী অটোমেটিক পানির লাইন চালু হয়ে যায়। পেঁচা ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করে। তারা তাদের ক্ষেত গুলোতে নির্ধারিত এবং জীবাণুমুক্ত পোশাক পড়ে তবেই প্রবেশ করে।

ফসলের প্রকার ও জাত অনুযায়ী তাদের ডাটাবেইজ আছে। যেমন টমেটো চাষ করেছেন, তারা জানে এই জাতের গাছের জন্য মাটিতে কি কি উপাদান থাকতে হবে। তারা মাটির বায়োকেমিক্যাল পরীক্ষা করে এবং একটি গাছের শিকড় কতোটুকু ছড়ায় ঠিক কতোটুকু জায়গাতেই পরিমাণ মতো সার প্রয়োগ করে।

ধরুন তাদের একটি গ্রীনহাউজ টমেটো ক্ষেতের কথা  প্রত্যেকটি টমেটো গাছের কান্ডে সেন্সর লাগানো আছে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানার জন্য, তার চাহিদা জানার জন্য। একেকটি টমেটো গাছ থেকে তারা ১৫ কেজি পর্যন্ত টমেটো উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। গাছের উচ্চতা বা লম্বায় প্রায় ২০ ফুট অবদি। প্রতিটি সারির মাঝে রেল লাইন, সেটাতে রোবটিক গাড়ীতে চড়ে টমেটো সংগ্রহ করা হয়। সেন্সর নির্ধারণ করে কোনটি সঠিক ভাবে পেঁকেছে এবং ঠিক কোন টমেটোটি তুলতে হবে। গাছ গুলো একটানা দুই বছর ফল দিতে থাকে। এমনকি ফুলের চাষও অত্যান্ত আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর।

এখানে দুটি আলাদা ধরনের শস্য ক্ষেত্রের কথা বললাম। এগুলো অনেকেই হয়তো জানেন, কিন্তু এখন যেটা বলবো সেটা হয়তো অনেকেই জানেন না!

আপনি কি জানেন, এন্টার্কটিকায়ও চাষাবাদ হয়, সেখানেও শস্য ক্ষেত্র আছে? কি আমাকে পাগল ভাবছেন? তাহলে চলুন জানা যাক–

এন্টার্কটিকার গড় তাপমাত্রা -58°C, আর শীতকালে -100°C পর্যন্ত। এই বিরুপ পরিবেশেও সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রায় ১২’শ বিজ্ঞানী অবস্থান করেন। (এন্টার্কটিকায় রক্ত রংয়ের রহস্য নিয়ে একটি লেখায় বিস্তারিত লিখেছি)
তারা বিভিন্ন রিসার্চ বেজ এ অবস্থান করেন।
জার্মানির বিজ্ঞানীরা সেখানেও ফসলের চাষাবাদ শুরু করেছেন এবং সফল হয়েছেন। তারা শিপিং কন্টেইনার আকারের একটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ যোগ্য কক্ষে কৃত্রিম আলোতে নিজেদের জন্য তাজা শাক সবজি উৎপন্ন করেন। Eden-ISS নামের এই “শস্য ক্ষেত্র” টিতে শশা, লালমূলা, কয়েক জাতের লেটুস, স্প্যানিস শাক ফলিয়েছেন।
এটাও একটি শস্য ক্ষেত্র।

আর জাপানীরা সাগরের পানির নিচে উৎপন্ন করেন এক ধরনের বহুমূল্যের শৈবাল, যা সালাদের সাথে খায়।

এবার চিন্তা করে দেখুন শস্য ক্ষেত্র গুলোর ধরণ এবং পার্থক্য। সবগুলোই তো শস্য ক্ষেত্র!!
অর্থাৎ আপনার ফসলের মাঠে চাইলেই বীজ বপন করে ফেলতে পারবেন না, তাহলে ফসল ফলবেনা। কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

যেমন-জমি নির্বাচন, সময় নির্বাচন, জমি চাষ, বীজ বা ফসল নির্বাচন, বপন, সার প্রয়োগ, বালাই দমন, সেঁচ, ইঁদুর – পাখি তাড়ানো, আগাছা দমন, ফসল পাঁকা পর্যবেক্ষণ এবং ফসল সংগ্রহ- এগুলো হলো আপনার শস্য ফলানোর ধাপ। চাইলে আপনি যে কোন সময়, যে কোন দিক থেকে আপনার ক্ষেতে প্রবেশ করতে পারবেন। কোন দিক দিয়ে প্রবেশ করবেন? যেখান দিয়ে নির্ধারিত রাস্তা আছে অবশ্যই সেখান দিয়ে? পাশের জমির ফসল মাড়িয়ে যাওয়া নিষেধ, আপনি তা মাড়াতে পারবেন না। তার মালিককে ভয় করতে হবে।

অর্থাৎ শুধুমাত্র স্ত্রীলিঙ্গেই যৌন সঙ্গম করুন, তার পায়ুপথে নয়। এক্ষেত্রে মালিককে (আল্লাহ্ কে) ভয় করুন। কেননা আপনাকে অবশ্যই একদিন আল্লাহর সামনে দাড়াতে হবে, হিসাব দিবসে।

আপনার ফলানো ফসল থেকে আগামী দিনের জন্য বীজ রেখে দিন মানে সন্তান জন্মদান করুন।
যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে, তার কিতাবকে বিশ্বাস করেছে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করেছে তারা অবশ্যই পুরষ্কৃত হবে।

নবী মুহাম্মদ সঃ এর যুগে ইহুদিদের মাঝে একটি কথা প্রচলিত ছিল যে, কেউ যদি তার স্ত্রীকে পিছন দিক থেকে ধরে স্ত্রী লিঙ্গে যৌনসঙ্গম (পায়ুপথে নয়) করে তাহলে সে সন্তান ট্যারা চোখের হবে।
এটা ভুল ধারণা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতেই নবী মুহাম্মদ সঃ এর প্রতি এই আয়াতটি নাজিল হয়েছিল।
এটা মানব জাতির জন্য একটি শিক্ষা।

সুতরাং আমার বর্ণিত বিভিন্ন শস্য ক্ষেত্রকে আপনার স্ত্রী’র সাথে তুলনা করুন। তাহলেই আপনার ধারণা পরিষ্কার হবে আশাকরি।

স্ত্রী শুধু যখন তখন যৌন চাহিদা মিটানোর বস্তু নয়, তার ইচ্ছা অনিচ্ছা চাহিদা স্বাস্থ্য শখ ইত্যাদির মূল্য আছে। তার ভাবনার বাইরে তার জন্য উপকারী পদক্ষেপ নিন, যত্ন নিন, নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিন তবেই আপনি তার সাথে যৌন মিলনের অধিকার রাখেন, পাথুরে পাহাড় সমতল এন্টার্কটিকায় কিংবা সাগর তলে! ঠিক আমার বর্ণিত শস্য ক্ষেত্র গুলোর মতো।

সুতরাং এই আয়াতটি/গুলো অশ্লীল নয়, আর অশ্লীল হবেই বা কিভাবে? আল্লাহ্ ই যেখানে আমাকে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন! এটা একটি উপমা মাত্র।

তাই আল্লাহ্ বলেছেন- “নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়”। সূরা কাহাফঃ ৫৪ নং আয়াত

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.