Take a fresh look at your lifestyle.

রাসূল (সাঃ) ও আয়েশা (রাঃ) এর মধুর সম্পর্ক

0

বর্তমান যুবসমাজ হারাম প্রেমে লাভ রিয়েক্ট দিতে দিতে অভ্যস্ত। তবে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে রোমান্টিক জুটির কাহিনী তারা হয়তো শুনিইনি যা যেকোন প্রেমকাহিনীকে ছাপিয়ে যাবে।এবং যে মুহব্বতের দাস্তান থেকে রচিত হয় ইশকের ইশতেহার,
‘ভালোবাসা নিজের স্বামীকে যেভাবে বেসেছিল আয়েশা (রা) মুহাম্মদ (স) কে’।

আয়েশা (রা) ছিলেন নবিজীর (সা) প্রিয়তমা স্ত্রী।
আয়েশা (রা) যখন নবিজীর ঘরে উঠলেন তখন তার ঘর ছিল দৈর্ঘ্যে প্রস্থে বড়োজোর ৮ হাত।উপরে খেজুর গাছের ঢাল দিয়ে বানানো ছাওনি,ঘরে ছিল একটি নিচু খাট, চাটাইয়ের বিছানা,একটি বালিশ।ঘরটি ছিল অনেক ক্ষুদ্র।একটি বাতিদান ছিল যা তেলের অভাবে জ্বালানোই হতো না।
আয়েশা (রা) বলেন,”যদি আমাদের বাতি জ্বালানোর তেল থাকতো তবে তা দিয়ে রান্না করে ফেলতাম”।
ঘরভর্তি ছিল দারিদ্র। ছিলনা বিলাসিকতার লেশ মাত্র। নবি (সা) বেচে থাকতে এমন তিনটে দিন যায় নি যে তারা পেটভরে খেয়েছেন।

তাদের ঘরে ছিল কেবল একটিমাত্র কম্বল।যা দুজনে একসাথে শেয়ার করতেন।একবার এক আনসার মহিলা ঘরে এসে দেখে আয়েশা ও রাসুলের (সা) শোয়ার বন্দোবস্ত মোটের উপর ১ টি কম্বল।তাই তিনি তাদের এক উলের মাদুর গিফট করেন।নবিজী (সা) যখন দেখলেন উলের মাদুর,তখন তিনি বললেন,”এটা কি আয়েশা?”
আয়েশা (রা) বিস্তারিত তাকে (সা) বললে তিনি বিষয়টা পছন্দ করলেন না আর বলেন ফিরিয়ে দিয়ে এসো।আর বললেন যদি আমি আল্লাহর কাছে চাই তবে তিনি পাহাড় কে আমার অধিন করে দিতেন আর তা সোনা রুপায় ভরে দিতেন।
এভাবে রাসুল (সা) অল্পে তুষ্টির পবিত্রতায় গড়ে তুলছিলেন আয়েশাকে।

আরেকবারের ঘটনা আয়েশা (রা) যেহেতু নারী তো তার স্বভাবিকই সাজুগুজো করার ইচ্ছে জেগেছিল।তো তিনি সোনার চুড়ি পড়েছিলেন (হয়তো কেও উপহার দিয়েছিল)।এটা দেখে রাসুল (সা) বললেন,আমি কি তোমাকে এর চেয়ে ভালো কোন পদ্ধতি বাতলে দিবো?তুমি যদি সোনার চুড়ি দান করে রুপার চুড়ির উপর সেফরন রঙ (দেখতে সোনার মত) মেখে নাও তাহলে তোমার জন্যে তাই উত্তম হবে।
বিনা বাক্যে আয়েশা (রা) মেনে নিলেন।

আরেকবার আয়েশা (রা) রুপার আংটি পড়েছিলেন।নবিজী (সা) তা দেখে বলেন,আয়েশা তুমি এটা কি পড়েছ?তার কথায় খানিকটা অপছন্দের সুর ছিল।আয়েশা বললেন,আমি এটা পড়েছি আপনার দৃষ্টিতে আমাকে ভালো দেখানোর জন্যে।রাসুল (সা) বললেন তুমি যে এগুলো পড়েছো তুমি কি এর জাকাত দিয়েছো?আয়েশা নবিজী (সা) কি বুঝাতে চেয়েছেন বোঝতে পারলেন।

নবিজী তাকে শিক্ষা দিয়েছেব অল্পতে তুষ্টির এবং আয়েশা (রা) খুব ভালোভাবেই তুষ্ট ছিলেন যা ছিল তা নিয়েই।তাদের এত দারিদ্রতা,তবুও বিন্দুমাত্র ভালোবাসার কমতি ছিল না।

আয়েশা (রা) নবিজির সাথে সবসময় খুনসুটি মজা করতেন যা একজন স্বামীর জীবনকে খুব সুন্দর করে তোলার জন্যে ছিল যথেষ্ট।হাজারো অভাবে তিনি অল্পের মধ্যে তুষ্ট ছিলেন।ওনাদের এই অভাবের পরিবারে কতটাই যে সুখ ছিল তার কিছু কাহিনী বলছি।

নবিজীকে একবার এক ব্যাক্তি দাওয়াত দিয়েছিল। নবিজী বললেন আমি একাই নাকি আয়েশাও?তিনি বললেন শুধু আপনিই।নবিজী বললেন আয়েশাকে দাওয়াত না দিলে আমিও দাওয়াত গ্রহন করবো না।

আয়েশার (রা) ঘরে ছিল একটাই থালা,তাতে নবিজী ও তিনি একিসাথে খেতেন।রাতে যখন খাবার খেতেন অন্ধকারে তখন একই খাবারে দুজনের হাত লেগে যেত,এবং উনারা হাসতেন।

মাংসজাতীয় কিছু খেলে আয়েশার চিবানো হাড্ডি রাসুল (সা) চিবায়ে খেতেন।আয়েশা যেখানে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন সেখানেই রাসুল দেখে দেখে পানি পান করতেন।

আয়েশা মনে মনে অনেকসময় এই ভাবতেন যে নবিজী তাকে কতো ভালোবাসেন,অন্য স্ত্রীদের চেয়ে কম না বেশি!একবার সাহস করে নবিজীকে জিজ্ঞেস করেন।নবিজী বলেন,তোমার এবং আমার মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন এমন,যেমন একটি রশ্নির মধ্যে সুতাগুলো শক্ত করে জোরে থাকে।
এই কথায় আয়েশা খুব খুশি হোন,এবং মাঝে মাঝে মজা করে নবিজীকে জিজ্ঞেস করতেন,দড়ির অবস্থা কেমন?সুতাগুলো শক্ত আছে নাকি ঢিলে গেছে?
নবিজী বলতেন,সুতাগুলো আগের মতোই শক্ত আছে।

নবিজী যখন ওযু করতেন তখন আয়েশা উনাকে পানির ছিটা দিতেন আর নবিজীও উনাকে পানির ছিটা দিতেন এবং বলতেন,”দেখো আয়েশা,আমি বাড়াবাড়ি করি নি বরং বদলা নিয়েছি আর বদলা নেয়ার কথা কোরআনেও আছে।”

একবার রাসুল (সা) ও আয়েশার মধ্যে কথাকাটাকাটি হচ্ছিল আর আয়েশা উচ্চস্বরে কথা বলছিল।তখন আবু বকর (রা) এ বিষয় দেখে ঘিরে গিয়ে আয়েশা ধমক দেন ও তাকে মারতে চান।নবিজী (সা) আয়েশাকে তার পিছনে নিয়ে যান এবং আবু বকর কে বুঝিয়ে শান্ত করেন।এবং পরে নবিজী বললেন,দেখলে আমার জন্যে আজ বেচে গেল,না হয় আজ মার খেয়ে না উঠার উপক্রম হতো।একথা শুনে আয়েশা হেসে দেন এবং তার কাছে ক্ষমা চান।আবু বকর (রা) হাসির শব্দ শুনে ঘরে ঢূকে বললেন একি,এখনি ঝগড়া আবার এখনি হাসি!আমাকেও এই হাসির সংগী বানান।যেমন আমাকে আপনি সব যুদ্ধেই কাছে রেখেছেন।

এমন স্ত্রী প্রত্যেক মুমিন বান্দাই আশা করে থাকে। এমন স্ত্রীই তো ‘কুররাতু আইয়ুন’।তো আপনিও হয়ে যান এমন চক্ষু শীতলকারী।

Leave A Reply

Your email address will not be published.