Take a fresh look at your lifestyle.

রাসূলের সুন্নাত ও বিজ্ঞান

0

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সুন্নাতগুলো আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত । তার কতিপয় আলোচনা নিচে দেওয়া হলোঃ

১.ঘুম থেকে উঠেই মিসওয়াক করা (আবু দাউদ) –

মিসওয়াক রাসূল (সাঃ) এর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস । হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) মিসওয়াকের অনেক ফযিলত বর্ণনা করেন । আধুনিক চিকিৎসাবিদ্গন এ সুন্নাত থেকে বেশ কিছু তথ্য বের করেছেন;দাঁতের কয়েকটি ভয়ঙ্কর রোগের মধ্যে ‘জিঞ্জিভাইটিম’ অন্যতম । এটি হলে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে থাকে এবং পচন ধরে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় । আবার ‘কেরিস টিথ’ এ রোগ হলে দাঁতের ক্ষয় শুরু হয় ।  আবার ‘পাইমোরিয়া’ এতে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় এবং রক্ত ঝরে । মিসওয়াক এ রোগ গুলো দূর করতে সক্ষম । গাছের ডাল দ্বারা মিসওয়াক করা সুন্নাত,ব্রাশ দিয়ে নয় । যখন এ রোগগুলো হয় তখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ডাক্তার পরামর্শ দেন মাড়িতে শক্ত কিছু দিয়ে হাল্কা হাল্কা চাপ দেয়ার জন্য । মিসওয়াক এক্ষেত্রে অনেক সহায়তা করে যা ব্রাশ এ হয় না । তাছাড়া মিসয়াকের চাপটা একটু শক্ত হওয়ায় দাঁত পরিষ্কার হয় বেশি ।

২.দুই হাত ভালো ভাবে ধোয়ার পর কোনো পাত্রে হাত দেয়া (তিরমিযি) –

এটা স্বাস্থের জন্য খুবই জরুরী বিষয় । ঘুমে থাকা অবস্থায় অচেতন ভাবে শরীরের গুপ্তঅঙ্গে স্বভাবতই হাত যায় । ফলে সেখানে থাকা নানা প্রকার রোগ জীবাণুতে হাত লাগে । তাই সে হাত না ধুয়ে কিছু খেলে মারাত্মক রোগ হতে পারে । যেমন গুহ্য দ্বারে হাত লাগালে বিভিন্ন প্রকার কৃমিতো আছেই এছাড়াও পুরুষের গনোরিয়া থেকে অন্যজন সংক্রমিত হতে পারে । মেয়েদের ট্রাইকোমনাস থাকলে সংক্রমিত হতে পারে ।

৩.পায়খানায় জুতা পায়ে মাথা আবৃত করে যাওয়া (ইবনে সাদ) –

পায়খানায় বহুপ্রকার রোগ জীবানু থাকে । যা খালি চোখে দেখার কোনো উপায় নাই । খালি পা থাকলেই এগুলো খুব সহজেই ত্বকের গভীরে পৌঁছে যা এবং বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায় । পায়ে জুতা থাকলে এ আশংকা আর থাকেনা । মাথার চুল সংবেদনশীল । এগুলো যেমন অতিসহজেই জীবাণু ধারন করতে পারে তেমনি জীবাণু ছড়াতেও পারে । তাই অস্ত্রপাচারের সময় ডাক্তারগণ মুখমন্ডল ছাড়া মাথা ঢেকে রাখে ।

৪.পেশাব পায়খানার ব্যাপারে সতর্কতা –

হরেক রকমের রোগ জীবাণু আমাদের শরীরে প্রবেশ করে । যেগুলো আমাদের শরীরে আশ্রয় নিতে পারেনা সেগুলোর ৯০% প্রসাবের সাথে এবং ১০% পায়খানার সাথে বের হয় । অতএব এর ছিটেফোটাও যদি কাপড়ে বা শরীরে লেগে থাকে তাহলে রোগটা আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে অথবা অন্য জায়গায় ছড়াতে পারে ।

৫.অযু করা –

এটা শুধু সুন্নাত নয়, নামাজ ও কুরাআন শরীফ ধরার জন্য অযু করা ফরজ । নামাজ পড়ার জন্য অযু করা শর্ত । শরীরের যে অঙ্গগুলো কাপড়ের বাহিরে থাকে যেমনঃ হাত, মুখমন্ডল, পা টাখনু পর্যন্ত । অযুতে এ জায়গাগুলো রোগ জীবাণু মুক্ত হয় । এছাড়া ধোয়ার সময় এ স্থানের স্নায়ু ও উপশিরাগুলো ঠান্ডা হয় যাতে রক্তের স্পন্দন সহজ হয় । গর্দান মাসেহের দ্বারা মস্তিষ্ক ঠান্ডা ও স্থির থাকে ।

৬.নাভির নিচে ও বগলের পশম কাটা –

বগলের চুল ও গুপ্তঅঙ্গের চুল সব সময় ঢাকা থাকে ফলে এগুলোতে ময়লা জলে নানা ধরনের জীবাণুর জন্ম হয় । এগুলো অনেক রোগ সৃষ্টি করতে পারে পারে । তাই রাসূল (সাঃ) বলেছেন, চল্লিশ দিনের পরে এগুলো না কাটলে গুনাহ হবে ।

৭.চুল ধোয়া, তৈল লাগানো ও আঁচড়ানো –

চুল ধুলে ময়লা দূর হয়, আঁচড়ালে ময়লা দূর হয় । চুলে তৈল দিলে মাথা ঠাণ্ডা থাকে । চুলের গোড়া শক্ত হয় । চুলের শেকড় গভীরে থাকে । চুল কালো হয় ।

৮.নখ কাটা –

স্বাস্থ্য রক্ষা করতে নখ কাটা অতি জরুরী । নখ না কেটে খাবার খেলে সেখানে জমে থাকা ময়লা পেটে গেলে হজমে অসুবিধা হয় । আমাশয়, ডায়রিয়া ও টাইফয়েড ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কৃমির জন্য হতে পারে ।

৯.খাওয়ার পর আঙ্গুল চেটে খাওয়া –

এ সুন্নাত থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা সুন্দর তথ্য বের করেছেন । খাওয়া শেষ হলে আঙ্গুল চাটার সময় মুখের ভিতরের সেলিভারি হতে টায়লিন নামক এক প্রকার পাচক রস বের হয় যা খাবার পাকস্থলি থেকে শিষন দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পূর্বেই অর্ধেক হজম হয়ে যায় ।

১০.মদ ও শুকরের গোশত না খাওয়া –

এগুলো শুধু রাসূল (সাঃ) এর পরিত্যাজ্য বিষয়, এগুলো আল্লাহ্‌ তা’আলা হারাম করেছেন । মদ পান করলে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় । কোনো ওষুধ শরীরে কাজ করে না । ফুসফুস ও হৃদপিণ্ড এর মধ্যে পানি জমে যায় । যা শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা সৃষ্টি করে । আর শুকরের গোশতে এম্ন এক জীবাণু থাকে যা সিদ্ধ করলে সহজে নষ্ট হয় না । এ জীবাণু থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য ও ফিতা কৃমি সৃষ্টি হয় । বড়ি বড়ি পায়খানা এবং রক্ত সল্পতা দেখা দেয় ।

১১.অযু করে ঘুমানো –

সারাদিন ক্লান্তির পর রাতেও শোয়ার সময় শরীর গরম ও মস্তিষ্ক অস্থির হয়ে থাকে । সেজন্য ভালোভাবে ঘুম  হয় না । ঘুমে সপ্নদোষ হয় । ঘুমের শুরুতে অযু করলে উপশিরার স্নায়ু ঠান্ডা হয় । ঘাড় মাসেহ করায় তাৎক্ষণিক মাথা ঠান্ডা এবং স্থির থাকে ফলে ভালো ঘুম এবং সপ্নদোষ হয় না ।

১২.ডান পাশে শোয়া –

ডান দিকে কাত হয়ে শোয়া সাস্থের জন্য বেশ উপকারী । পাকস্থলির খাদ্য শিষন দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথ হলো ডান্ দিক । তাই ডান কাত হয়ে শুলে খাবার পরিপাকে সুবিধা হয় । খাবার একত্রে আর জমে থাকে না । আমাদের হার্ট বাম  পাশে ,যদি ডান পাশে কাত হয়ে শোয়া হয় তাহলে হৃদস্পন্দন সহজ হয় ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.