Take a fresh look at your lifestyle.

মোবাইল ফোন ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব

0

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অতুলনীয় একটি আবিষ্কার হচ্ছে মোবাইল । প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিটি মানুষের হাতে এখন মোবাইল ফোন । মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হচ্ছে মোবাইল ফোন । বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে মোবাইলফোন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে । মোবাইল ফোনের উপকারিতা সম্পর্কে কম-বেশি সকলের জানা থাকলেও নেতিবাচক দিক সম্পর্কে অনেকেরই অজানা । মোবাইল ফোনের নেতিবাচক প্রভাব এখানে তুলে ধরবো । দৃষ্টিশক্তিকে নেয়া হতে শুরু করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে এ মোবাইল ফোন ।

শ্রবণ দুর্বলতাঃ মোবাইল ফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি থেকে নানান সমস্যার সৃষ্টি হয় । এ ফ্রিকোয়েন্সি বা তরঙ্গ তরঙ্গ কানের ক্ষতি করে । মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে শ্রবণশক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা । মোবাইলে তড়িৎ চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সাথে দীর্ঘদিনের অন্তরঙ্গতা কানে শোনার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে ।

চোখের উপর মোবাইল ফোনের প্রভাবঃ চক্ষুরোগ চিকিৎসক অ্যানি হেপওর্থ দাবি করেছেন মোবাইলের দিকে তাকালে চোখের পলক কমে যায় এবং  স্বাভাবিকের তুলনায় ফোন চোখের বেশি কাছাকাছি এনে দেখা হয় । যার ফলে ক্ষীণ দৃষ্টি সৃষ্টি হতে পারে । চোখের উপর মোবাইল ফোনের নীল আলোর প্রভাব উল্লেখযোগ্য । ইউনিভার্সিটি অব টলেডোর গবেষণায় বর্ণনা করা হয় নীল আলোর কারনে চোখে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ঘটে । ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হলো চোখের রেটিনায় থাকা ম্যাকুল অংশে কোষ নষ্ট হয়ে যাওয়া পাতলা হয়ে যাওয়া । যে কোন জিনিসের ক্ষুদ্র খুঁটিনাটি জিনিস দেখতে সাহায্য করে ম্যাকুল । এর ডিজেনারেশন হলে এর কোষ নষ্ট হয়ে যায় । ফলে মানুষ চোখে ঝাপসা দেখে । ম্যাকুলা ডিজেনারেশনে নীল আলোর প্রভাবটা আসলে কোথায়? রেটিনায় রেটিনাল নামের একটি অণু থাকে যা চোখ থেকে মস্তিষ্কে তথ্য নিয়ে যেতে সাহায্য করে । কিন্তু নীল আলোর উপস্থিতিতে রেটিনাল উল্টো চোখেরই ক্ষতি করে । একপর্যায়ে সে রেটিনার কোষ গুলোকে মেরে ফেলতে শুরু করে ।  এটাই হচ্ছে ডিজেনারেশন দুঃখের বিষয় হল বর্তমানে এর কোনো চিকিৎসা নেই । তবে ইনজেকশন দেওয়ার মাধ্যমে এর গতি কমিয়ে আনা যায় । গবেষনায় দেখা গেছে  রেটিনাল স্নায়ু কোষ ও হৃদপিণ্ড  কোষের ও ক্ষতি করতে পারে শুধু এ মোবাইল শুথু এই মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইসের নীল আলোর উপস্থিতি । এ পরিস্থিতিতে আশার আলো খুঁজে পাওয়া গিয়েছে ।  গবেষকরা এমন এক ধরনের ভিটামিন ই খুঁজে পেয়েছেন যা কোষের এমন মৃত্যু রোধ করে । তবে বয়সের সাথে সাথে শরীরের এই প্রতিকার ব্যবহারের ক্ষমতা কমতে থাকে ।

ঘুম না হওয়াঃ বর্তমানে প্রায় অনেকের কাছ থেকে এমন বক্তব্য শোনা যায় যে তার ঘুম আসে না ভালোভাবে ঘুম হচ্ছে না । এরপেছেনেও মোবাইল ফোনের প্রভাব রয়েছে । আমাদের ঘুমকতটা ভালো হবে তা নির্ভর করে মেলাটোনিন হরমোন ক্ষরণের উপর । মোবাইল ফোনের নীল আলো এ মেলাটনিন হরমনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয় ।ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না ।

বন্ধাত্বঃ মোবাইল রশ্মি বিকিরণের একটি অন্যতম ক্ষতিকর দিক ।অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেন অতিরিক্ত সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার শুক্রাণু কমিয়ে দিতে পারে । অধিকাংশ পুরুষ মোবাইল ফোন প্যান্টের পকেটে রাখেন । এসময় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন পুরুষের প্রজননতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে । এ ধরনের ক্ষতিকর তরঙ্গ বীর্যের উপর উপর প্রভাব ফেলে ও ঘনত্ব কমিয়ে দিতে দিতে পারে । ফলে বংশ বৃদ্ধিতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় ।

ক্যান্সার কোষ সৃষ্টিঃ ব্রেইন টিউমার হচ্ছে এমন অবস্থা যখন মানুষের মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক কোষ সৃষ্টি হতে থাকে । এ টিউমার ২ ধরনের তার মাঝে একটি হচ্ছে ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার । ম্যালিগন্যান্ট ব্রেইন টিউমার প্রাথমিক পর্যায়ে কান ও কপালের মধ্যবর্তী স্থানে সৃষ্টি হয় । অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে ক্যান্সারে রূপ নেয় । ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ২১ বছরে ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রান্তদের পর্যালোচনায় দেখা যায় মোবাইল ব্যবহারের কারণে বাড়ছে ব্রেইন ক্যান্সারের হার । ১৯৯৫ সালে যেখানে প্রতি লাখে ক্যান্সার আক্রান্ত ছিল ২.৪ সেখানে ২০১৫ সালে সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ জনে । জার্নাল অফ এনভায়রনমেন্ট এন্ড পাবলিক হেলথ ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রান্তদের জীবনযাত্রা খাবার-দাবার সবকিছু পর্যন্ত সরাসরি কোনো কারণ খুঁজে না পেলেও গবেষকরা এর জন্য মোবাইল কে দায়ী করেন । গত .২১ বছরের ব্যবধানে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার বেড়েছে অনেক বেশি । এতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে দিগুনের এর ও বেশি মানুষ । তাই বিজ্ঞানীরা মনে করেন মোবাইল ফোনের ব্যাবহারের সঙ্গে ক্যান্সার সৃষ্টির রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক । স্টাডি এন্ড ট্রাস্ট অব চিল্ড্রেন উইথ ক্যান্সার ইউকের প্রধান গবেষক আলসিভির ফিলিপস বলেন ব্রেইন ক্যান্সারের কারণ খুঁজতে গিয়ে মোবাইল ফোনের ভূমিকার বিষয়টি সামনে চলে আসে । তবে ফিলিপস মোবাইল ফোন ব্যবহারে দীর্ঘ কথা বলার সময় স্পিকার ব্যবহার পরামর্শ দেন ।

অন্যান্য প্রভাবঃ মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা রয়েছে । ঘুম না হওয়ার জন্য মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে ফলে স্মৃতিশক্তি লোপ পায় । এছাড়াও আরো সমস্যা দেখা দিতে পারে । ভারতের জয়েন্ট প্রতিস্থাপন চিকিৎসক নীরদ ভেং সরকার জানিয়েছেন অতিরিক্ত সময় ধরে মেসেজ বা বার্তা টাইপ করা হলে আঙুলের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা হতে পারে এবং অবস্থা বেশি খারাপ হলে আর্থরাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে কিছু নির্দেশনাঃ সাধারণত সবাই  ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি দূরে ফোন রাখে । এমনটা না করে ১২ থেকে ১৫ ইঞ্চি দূরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করুন ।ফোনের আলো কম বা বেশি দুটই ক্ষতিকর । যেমন আলোর মাঝে আমরা থাকবো সেই অনুযায়ী Brightness সেট করে নিতে হবে । দিনের আলোতে  একটু বেশি ও রাতের আলোতে কম brightness সেট করা ভালো । ঘুমানোর সময় মোবাইল বালিশের আশেপাশে না রেখে দূরে রাখা । কথা বলার সময় হেডফোন ব্যবহার করা । মোবাইল ফোনের উপকারিতা থআকার সাথে সাথে  অপকারিতা ও আছে তাই আমাদের উচিত যথাসম্ভব মোবাইল ফোন হতে দূরে থাকা ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.