Take a fresh look at your lifestyle.

ফেসবুকে অ্যাড দিয়ে সেল কম পাচ্ছেন বা পাচ্ছেন না, সমস্যা কোথায়?

0

সমস্যাটা কোথায় সেটা এক বাক্যে বলা কঠিন। যেসব কারন থাকতে পারে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি সেয়ার করবো। আবার অ্যাড দিলেই যে সেল হবে এটা আশা করাও ভুল।

প্রথমত আপনার প্রশ্নটিই ভুল হতে পারে। কিভাবে? প্রতিটি ফেসবুক অ্যাড রান করার আগে ফেসবুক-কে বলে দিতে হয় এই অ্যাডের উদ্দেশ্য কি। উদ্দেশ্য গুলো এরকম হয়; অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানো, আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানো, পোস্টে মানুষের এনগেজমেন্ট বাড়ানো , অ্যাপ ইন্সটল বাড়ানো, আপনার পেইজে মানুষকে ম্যাসেজ দিতে উৎসাহিত করা, বিক্রি বাড়ানো ইত্যাদি। আপনি মার্কেটারকে বলেছেন আমার ফেসবুক পেইজে লাইক বাড়াতে হবে, এই ধরনের অ্যাড এ আপনি লাইক পাবেন, সেল আশা করছেন কেনো ? আবার আপনি চেয়েছেন আপনার পোস্টটি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ডিজিটাল মার্কেটার আপনার অ্যাডটি সেভাবেই রান করবে যাতে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছায়। এবার আপনিই চিন্তা করে দেখুন, “অ্যাড দিয়ে সেল পাচ্ছি না, সমস্যা কোথায়?” কখন আপনার প্রশ্নটি করা যুক্তিযুক্ত। শীতকালে জ্যাকেট বেশি বিক্রি হয়, আপনি গ্রীষ্ম কালে জ্যাকেট বিক্রি করার চেষ্টা করছেন না তো? কোথায় বিক্রির চেষ্টা করছেন সেটাও একটা ব্যাপার। অন্ধের দেশে চশমা এরকম কিছু হচ্ছে না তো?

২. ডিজিটাল মার্কেটার দায়িঃ সেল না হলেই যে ডিজিটাল মার্কেটার এ জন্য দায়ী ব্যাপারটা তেমন না। আবার সে দায়ী হতেও পারে। আপনার অ্যাডটি সঠিক মানুষকে টার্গেট করে দেয়া হচ্ছে কিনা সেটার খবর নিন। ধরেন আপনি মেয়েদের গহনা বিক্রি করছেন। তাহলে আপনার টার্গেট পিপল হবে মেয়েরা, শুধু ঢাকায় বিক্রি করতে চাচ্ছেন তাহলে লোকেশন হবে ঢাকা, বয়স হতে পারে ২০-৩৫। আপনার ডিজিটাল মার্কেটার এর সাথে আপনার টার্গেট পিপল নিয়ে কথা বলুন।তাকে বিস্তারিত বলুন আপনি কাদের কাছে অ্যাডটি দেখাতে চান। যাইহোক খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন সমস্যাটা ডিজিটাল মার্কেটিং করার সময় হচ্ছে কিনা।

৩. সব ধরনের অ্যাডে একই সেল আশা করাঃ আবার ফেসবুকে সব ধরনের অ্যাডে একই রকম সেল আশা করা ভুল। আপনি ভিজিটরকে ওয়েবসাইটে নিয়ে গেলে এক ধরনের সেল পেতে পারেন আবার মেসেঞ্জারে অ্যাড দিলে আরেক ধরনের সেল পেতে পারেন।আপনাকে খুজে বের করতে হবে আপনার জন্য কোনটা ভালো কাজ করতেছে। তাহলে যেটা করতে পারেন অ্যাড শেষে ডিজিটাল মার্কেটার এর সাথে সেল নিয়ে কথা বলতে পারেন তাহলে তার ধারণা হবে কোন ধরনের অ্যাডে আপনার ভালো সেল হচ্ছে। অথবা আপনি তার কাছে জেনে নিন সে কি ধরনের এড রান করেছে এবং আপনার সেল কেমন হচ্ছে সেটা হিসাব রাখুন।

৪. কন্টেন্ট সমস্যাঃ আপনি অ্যাড দেওয়ার জন্য যে কনটেন্ট ব্যবহার করেছেন , ইমেজ বা ভিডিও সেগুলো ততটা অ্যাট্রাক্টিভ না।

৫. প্রডাক্টঃ সমস্যাটা হতে পারে আপনার প্রোডাক্টের। আপনি যে প্রোডাক্ট বিক্রি করতেছেন সেটার চাহিদা আছে কিনা বাজারে সেটা দেখার বিষয়। বা চাহিদা থাকলেও আপনার প্রোডাক্ট এর মান কিরকম সেটাও একটা বিষয়। আবার হতে পারে আপনার প্রোডাক্ট এর চাহিদাও আছে প্রোডাক্টের কোয়ালিটি ভালো কিন্তু আপনি সুন্দরভাবে সেটা উপস্থাপন করতে পারেননি ভিডিও বা ছবি দিবে।

৬. সার্ভিসঃ অনেকে আগে সেল পেয়েছেন কিন্তু এখন পাচ্ছেন না বা কম পাচ্ছে। সমস্যাটা হতে পারে আপনার সার্ভিসে। আপনি হয়তো কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর তাড়াতাড়ি দিচ্ছেন না বা এর আগে ডেলিভারি দিতে অনেক বেশি সময় নিয়েছেন তাই অনেকেই আপনার কাছ থেকে না কিনে অন্য কারো কাছে কিনতেছে। আপনার সার্ভিসের কোয়ালিটি যেসব বিষয়ের উপর নির্ভর করে সেগুলো ঠিক আছে কিনা খেয়াল করুন।

৭. পন্যের মূল্যঃ সমস্যাটা হতে পারে আপনার পণ্যের মূল্য নির্ধারণে। হয়তো আপনি হঠাৎ করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন এই কারণে মানুষ কিনতে চাচ্ছে না। বা আপনি এর আগে ডিসকাউন্ট দিয়েছেন, সেল পেয়েছেন এখন ডিসকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন আর সেল পাচ্ছেন না। আবার হতে পারে আপনার কম্পিটিটর আপনার তুলনায় কম প্রাইজে বিক্রি করতেছে।

৮. ব্যাবসা শুরুর বয়সঃ আপনি যে অবস্থায় সেল আশা করতেছেন আদৌ কি এই অবস্থায় সেল চাওয়াটা যুক্তিযুক্ত? আপনি যদি ফেসবুক পেজ তৈরি করার সাথে সাথেই অ্যাড দিয়ে সেল আশা করেন তাহলে ভুল হবে। আপনার ব্যাবসার নাম তো তেমন ভাবে কেউ জানেই না; তাহলে আপনার কাছ থেকে কিনবে কেন? আপনি কি নতুন কোনো ফেসবুক পেইজ থেকে কোন কিছু সহজে কেনেন? বা বাজারে নতুন আসা কোন কম্পানির প্রডাক্ট কেনেন কিনা!

৯. য়েবসাইটঃ আপনি ফেসবুকে এড দিয়ে মানুষজনকে আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু আপনার ওয়েবসাইট হয়তো লোড নিতে বেশি সময় নিচ্ছে বা ডিজাইন দেখে মানুষের পছন্দ হচ্ছেনা। তাই মানুষ ওয়েবসাইটে ঢোকার সাথে সাথে কিছু না কিনেই বের হয়ে আসতেছে।

১০. সময়ঃ শীতকালে জ্যাকেট বেশি বিক্রি হয়, আপনি গ্রীষ্ম কালে জ্যাকেট বিক্রি করার চেষ্টা করছেন না তো? কিছু প্রডাক্ট সময়ভেদে বিক্রি কমবেশী হয়।আবার সব ব্যাবসায়ের একটা সিজন থাকে বা কিছু সময় থাকে যেসময় বেশী সেল হয় অন্যসময় কম। যেমনঃ ঈদের আগে বেশী সেল পরে কম। মাসের প্রথমে সবার পকেটে বেশী টাকা থাকে সেল বেশী, মাসের শেষের ১০ দিনে কম ইত্যাদি।

সরকথাঃ সব অ্যাডে সেল সেল পাবেন না অ্যাড দিলেই সেল হবে এ ধারনা ভুল সেল না হলেই দোষ ডিজিটাল মার্কেটার-এর সেটা সবসময় সত্যি না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.