Take a fresh look at your lifestyle.

পঙ্গপালের আক্রমণ

0

প্রথম দেখে মনে হয় পাখির ঝাঁক তবে ভুল ভাঙ্গে গাছের দিকে তাকালেই। শত শত বা হাজার হাজার নয় কোটি কোটি পঙ্গপালের ছেয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের ক্ষেত। ঘাসফড়িং এর সমগোত্রীয় একটি প্রাণী পঙ্গপাল। এ পতঙ্গ দল বেধে আক্রমণ করে মাঠের পর মাঠ ফসল উজাড় করে দেয়। ১০ লাখ পতঙ্গের একটি ঝাক এক দিনে ৩৫ হাজার মানুষের খাবার খেয়ে ফেলতে পারে। পবিত্র কুরআন এবং বাইবেল এর মতো একাধিক ধর্মগ্রন্থে এসব পতঙ্গের আক্রমণ সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভয়ংকর মহামারী আকারে আবির্ভূত হওয়া ফসল খাদক এই পতঙ্গ ‘পঙ্গপাল’। পৃথিবীর প্রাণী জগতের মধ্যে অত্যন্ত বিস্ময়কর এক আচরণ পঙ্গপালের ঝাঁক। পৃথিবীতে কোনো প্রাণী পঙ্গপালের মত দল বেধে এত দ্রুত এবং নাটকীয় ভাবে আবির্ভূত হয় না। পঙ্গপাল এবং ঘাসফড়িং এর মধ্যে পার্থক্য হলো ঘাসফড়িং একাকী বসবাস করে আর পঙ্গপাল অবস্থান করে ঝাকে ঝাকে। একক পঙ্গপালকে ইংরেজিতে বলা হয় Locust আর এদের ঝাককে বলা হয় Locust Swarm. একা থাকাকালীন পঙ্গপাল কৃষির জন্য তেমন ক্ষতিকর নয় তবে বিশেষ বিশেষ কিছু প্রাকৃতিক পরিবেশে পঙ্গপালের আচরণগত বিরাট পরিবর্তন লক্ষ করা যায় এবং তখন তারা প্রচন্ড ক্ষতিকর পতঙ্গে পরিণত হয়। পঙ্গপালের মস্তিষ্কের বিশেষ পরিবর্তনের ফলে তারা অতি দ্রুত বহুসংখ্যক সন্তান জন্মদান করে। এবং ধীরে ধীরে সামান্য থেকে বিশাল দল গড়ে তোলে।পঙ্গপালের সংখ্যা অসম্ভব রূপে বৃদ্ধি পেলে এদের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো প্রবৃত্তি জাগে। তখন শস্যের গন্ধ শুকে নতুন নতুন খাবারের সন্ধান খুজে বের করে। যতক্ষণ কোন এলাকার খাদ্যশস্য আছে ততক্ষণ এরা টিকে থাকে। কোনো এলাকার খাদ্যশস্য শেষ হয়ে গেলে পোকাগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে অতি দ্রুত সেই এলাকা ত্যাগ করে। পঙ্গপালের উপদ্রব ঠেকাতে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়নি। মাটিতে পঙ্গপালের ডিম দীর্ঘকাল টিকে থাকতে পারে এমনকি ২০ বছর পরেও মাটিতে পড়ে থাকা পঙ্গপালের ডিম থেকে বাচ্চা হতে পারে। বাচ্চা পঙ্গপাল উড়তে পারেনা। অল্প বয়সে এই পতঙ্গ গুলো লাফিয়ে চলে। সাধারনত একটি বাচ্চা পূর্ণবয়স্ক হতে প্রায় ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। পূর্ণ বয়স্ক হবার পর তাদের শারীরিক গঠন খুব দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। একটি প্রাপ্তবয়স্ক পঙ্গপাল প্রতিদিন তার নিজের ওজনের সমান খাদ্য গ্রহণ করে। এসব পোকা প্রতিনিয়ত দলবেধে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। যাতায়াতের সময় পঙ্গপাল নিজের দেহের শক্তি সঞ্চয় করে বাতাসের উপর ভর করে এগিয়ে চলে। বাতাসের গতি পথ অনুসরন করে চলার ফলে বাতাস যেদিকে যায় গঙ্গোপালও সেদিকেই আক্রমণ করে। এক একটি পঙ্গপালের ঝাক তাদের যাত্রাপথে নতুন নতুন দলের সাথে মিলিত হয়। কয়েকটি বড় বড় ঝাক এক সাথে মিলিত হয়ে অতিকায় ঝাক তৈরি করে। প্রতিটা অতিকায় ঝাকে কয়েক বিলিয়ন পঙ্গপাল থাকতে পারে।অতি বৃহৎ এক একটি ঝাক প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। আর প্রতি কিলোমিটারের যাতে ৪ থেকে ৮ কোটি পতঙ্গ থাকতে পারে। এই বিশাল পঙ্গপালের দল তাদের চলার পথে খাবার উপযোগী সকল কিছু সবাড় করে দেয়। পঙ্গপালের আক্রমণে কোন অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থায় মারাত্মক ধস নামতে পারে। এসব পতঙ্গ কোন এলাকায় আক্রমণ করলে সেখানকার কোন গাছের পাতা অবশিষ্ট থাকে না।পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে এখন আতঙ্কের নাম পঙ্গপাল। ৭ দিনে ১ লক্ষ একরেরও বেশি জমির ফসল নষ্ট করেছে পতঙ্গের দল। একই অবস্থা পাশের দেশ উগান্ডাতে। তাতেও পরিস্থিতি সামলাতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটিতে বিপুল খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ায় দুর্ভিক্ষের সংখ্যা জাতিসংঘের। তো ওকে সংস্থার বিশেষজ্ঞদের ধারণা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পঙ্গপালের এমন প্রকোপ। প্রথম দেখে মনে হয় পাখির ঝাঁক তবে ভুল ভাঙ্গে এই কাছে দিকে তাকালেই শত শত বা হাজার হাজার নয় কোটি কোটি পঙ্গপালের ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের ক্ষেত। অচল কপালে নজিরবিহীন আক্রমণ রীতিমতো বিপর্যস্ত পশ্চিম আফ্রিকা। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কেনিয়ার এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশটির পূর্বাঞ্চলে পঙ্গপালের রাজত্ব এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে দেশটির এক লাখ একরেরও বেশি এলাকা। ইথিওপিয়ার মরু অঞ্চল থেকে ঝাকে ঝাকে ছুটে আসছে পঙ্গপালের দল।অক্টোবরে লাগানো হয় ফসল আর এখন এই ক্রান্তি লগ্নে ফসল নষ্ট করে দিল পঙ্গপাল। পাশের দেশ উগান্ডাতেও একই অবস্থা ।মাইলের পর মাইল এলাকাজুড়ে পঙ্গপালের এক একটি ঝাকের বিস্তার । এর আক্রমণ থেকে ক্ষেতের ফসল বাচাতে নানা চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা। এমনকি বিমান থেকেও ছেটানো হচ্ছে ওষুধ, যদিও তাদের সাফল্য নেই বললেই চলে। পঙ্গপালগুলো ডিম পাড়ে মাটির ভেতরে যার ফলে বিমান থেকে যতই কীটনাশক ছিটানো হোক না কেন এদের দমন করা যাচ্ছেনা। প্রতি সপ্তাহেই জন্ম নিচ্ছে কোটি কোটি পঙ্গপাল।হঠাৎ প্রকোপ এর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন কর্তৃপক্ষ। বলা হচ্ছে হঠাৎ তাপমাত্রা কমে করে বৃষ্টি হওয়ায় আদ্রতা বেড়েছে মাটির নিচে বেড়েছে যার ফলে জন্ম নিচ্ছে পঙ্গপাল।পঙ্গপাল দমনে প্রায় ৮ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে FAO. পতঙ্গবিশ্লষকরা বলছেন দ্রুত জলবায়ু ঠিক না হলে এর সংখ্যা ৫০০ গুণ বাড়তে পারে।পকিস্থানেও বেড়েছে পঙ্গপালের উপদ্রব।কয়েকদিনে নষ্ট করেছে ফেলেছে হাজার হাজার একর ফসলের জমি। দূর্ভিক্ষ এড়াতে ১ লাখ হাস পাঠাচ্ছে চীন সতর্ক ভারতও। পাকিস্থানের সিন্ধু, বেলুচিস্থান এবং পাঞ্জাব প্রদেশে এর ভায়াবহতা সবচেয়ে বেশি।কর্মী পাঠিয়ে স্পেরে করেও কমানো যাচ্ছে না পাকিস্থানে এর সংখ্যা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.