Take a fresh look at your lifestyle.

চলচ্চিত্র জগতে মৃত্যুর হানা

0
কেন শিমুরা (কাইশ্যা) : জাপানের খ্যাতনামা কমেডিয়ান কেন শিমুরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেল ২০ মার্চ থেকেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এর তিনদিন পর করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে বাংলাদেশে কাইশ্যা নামে পরিচিত এই অভিনেতার। এই ভাইরাসের কারণেই রোববার (২৯ মার্চ) ৭০ বছর বয়সী এই অভিনেতা মারা যান। কেন শিমুরা ২০ মার্চ নিউমোনিয়া সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে পরীক্ষার পর ২৩ তারিখ তার শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। জাপানের বিনোদন জগতের লোকদের মধ্যে তারই প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হন। শিমুরা তার কাজের জন্য বিশ্বজুড়েই প্রশংসা পেয়েছেন। জাপানি এ অভিনেতা বাংলাদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়। বাংলায় তার ডাবিং ভিডিওগুলোও কাইশ্যা নামে পরিচিত হওয়ায় মূল নামে চাইতে কাইশ্যা নামেই তাকেই লোকজন বেশি চেনেন। জীবিত অবস্থায় তিনি বলেছিলেন, তার কমেডিয়ান হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন আমেরিকান কমেডিয়ান জেরি লুইস।

গ্রায়েম ওয়াটসন : ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর লড়াইয়ের পর অবশেষ হার মানলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার গ্রায়েম ওয়াটসন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ১৯৪৫ সালের ৮ মার্চ ভিক্টোরিয়াতে জন্ম গ্রহণ করা ওয়াটসন প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ভিক্টোরিয়া, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে ১০৭টি ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৭৭ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেন ওয়াটসন। এছাড়া ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৫টি টেস্ট ও ২টি ওয়ানডে খেলেছেন । টেস্টে ৯৭ ও ওয়ানডেতে ১১ রান করেছেন। টেস্টে ৬টি ও ওয়ানডেতে ২টি উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনটি ভিন্ন রাজ্যদলের হয়ে শেফিল্ড শিল্ডে খেলেছেন ওয়াটসন। তবে, ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই ইনজুরিতে ভুগেছেন ওয়াটসন। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে টনি গ্রেগের এক বিমারে বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়েন ওয়াটসন। পরে চিকিৎসকরা তাকে খেলা ছাড়তে বলেছিলেন। কিন্তু পরে আবারো মাঠে ফিরেন তিনি। ১৯৭২ সালে ইংল্যান্ড সফরে দু’টি টেস্ট খেলেন ওয়াটসন।
ইরফান খান : বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে তিনি মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধিরুবাই আম্বানি হাসপাতালে মারা যান। সেখানেই কোলন ইনফেকশন সমস্যা নিয়ে আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন তিনি। হাসপাতালে ইরফান খানের সঙ্গে তার স্ত্রী সুতপা ও দুই সন্তান ছিলেন। ব্রেনে টিউমার নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে লড়াই করছেন তিনি। সুস্থ হয়ে ‘আংরেজি মিডিয়াম’ ছবির মধ্যে দিয়ে কামব্যাকও করেছিলেন তিনি। কিন্তু আবারও অসুস্থ হয়ে ভর্তি হলেন ইনফেকশন নিয়ে। অসুস্থ হওয়ার পর এক টুইটে ইরফান লেখেন, “জীবনে জয়ী হওয়ার সাধনায় মাঝে মধ্যে ভালবাসার গুরুত্ব ভুলে যাই আমরা। তবে দুর্বল সময় আমাদের তা মনে করিয়ে দেয়। জীবনের পরবর্তী ধাপে পা রাখার আগে তাই খানিক ক্ষণ থমকে দাঁড়াতে চাই আমি। অফুরন্ত ভালবাসা দেওয়ার জন্য এবং পাশা থাকার জন্য আপনাদের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আপনাদের এই ভালবাসাই আমার যন্ত্রণায় প্রলেপ দিয়েছে। তাই ফের আপনাদের কাছেই ফিরছি। অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সকলকে।” ফিরে এসেছিলেন ইরফান। তার শেষ মুক্তি পাওয়া ছবি “আংরেজি মিডিয়াম’ লকডাউনের জেরে থিয়েটার রিলিজ হয়নি। দুই ছেলে আর আর স্ত্রীকে রেখে ইরফান পাড়ি দিলেন নতুন দুনিয়া। এর আগে ২০১৮ সালে ইরফান খান নিউরোনডকট্রিন টিউমারে আক্রান্ত হন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভারতের জয়পুরে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইরফান খানের মা সাইদা বেগম। লকডাউনের কারণে মায়ের শেষবিদায়ে অংশগ্রহণ করা হয়নি তার।
ঋষি কাপুরঃ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভারতের মুম্বাইয়ের এইচএন রিলায়েন্স হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি মারা যান। তাঁর ভাই রণধীর কাপুর তাঁর প্রয়াণের খবর সবাইকে জানান। প্রায় দু’ বছর ধরেই ক্যানসারে ভুগছিলেন ঋষি কাপুর। বিদেশে এক টানা চিকিৎসার পর গত বছর দেশে ফেরেন তিনি। কিন্তু মাঝেমধ্যেই সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সংবাদসংস্থার খবর, বুধবার সকালে শ্বাসকষ্ট বাড়ায় মুম্বাইয়ের এইচএনএন রিলায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অভিনেতাকে। কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কাপুরের দ্বিতীয় ছেলে ঋষির জন্ম ১৯৫২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। ১৯৭৩ সালে ডিম্পল কাপাডিয়ার বিপরীতে ‘ববি’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি জগতে নায়ক হিসেবে পা রাখেন তিনি। এর আগে রাজ কাপুরের স্মরণীয় সিনেমা ‘শ্রী ৪২০’ ও ‘মেরা নাম জোকার’-এ অভিনয় করেন শিশুশিল্পী হিসেবে। অমর আকবর অ্যান্টনি, লায়লা মজনু, রাফো চক্কর, সারগাম, কর্জ, বোল রাধা বোল-সহ অনেক হিট সিনেমা করেছেন তিনি। ক্যানসারের শেষ পর্যায়ে মুক্তি পেয়েছে কাপুর অ্যান্ড সন্স, ডি-ডে, মুলক ও নট আউট। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘দ্য বডি’। ঋষির দুই সন্তান। এর মধ্যে ছেলে রণবীর কাপুর বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা। অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এক টুইট বার্তায় ঋষি কাপুরের মৃত্যুর খবরটি শেয়ার করে লেখেন, ঋষি চলে গেলেন মাত্র। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধিও টুইটে শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, ইরফান খানের পরেই ঋষি কাপুরের চলে যাওয়া বিরাট ক্ষতির মুখে দাঁড় করাল হিন্দি ছবির দুনিয়াকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঋষির অনুরাগীরা তার প্রতিভায় বুঁদ হয়েছিলেন। ভারতীয় সিনে দুনিয়া এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীরা তাকে স্মরণ করবেন আজীবন। বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। একের পর এক মৃত্যুর খবরে দিশাহারা চলচ্চিত্র জগৎ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.