Take a fresh look at your lifestyle.

করোনা থেকে মুক্তি পেতে সর্তকতা চাই বাজার করার সময়

0

প্রাণঘাতী করোনা আকান্ত আর মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। দেশে দেশে চলছে লকডাউন। সব বন্ধ হলেও পেট কিন্তু চালাতেই হয়। তাই সবকিছুর মধ্যেও খোলা রাখতে হচ্ছে নিত্যপণ্যের বাজার ও ওষুধের দোকানগুলো। তবে সীমিত আকারে এনে দোকান খোলা থাকলেও ঝুঁকি নেই তা কিন্তু বলা যায় না। বিশেষ কাজে হরহামেশাই বের হচ্ছেন বাজার বা দোকানে। এসব জায়গা থেকেও শরীরে প্রবেশ করতে পারে করোনা ভাইরাস। তাই বাজারে বা দোকানে গেলে কিছু বিষয় মেনে চলাটা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনার জন্য বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো ।

১. জনসমাগম রয়েছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলুন। কোনো দোকানে বেশি ভিড় দেখলে সেখানে যাবেন না ।

২. বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করুন। তবে মুখে কখনো স্পর্শ করবেন না ।

৩. বাজার থেকে ফিরে অবশ্যই হাত ধুতে হবে। এরপর বাজারের ব্যাগটিও সাবান পানিতে ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে রোদে দিন। পলিথিন হলে ফেলে দিন ডাস্টবিনে ।

৪. সবসময় বাজার থেকে সতেজ ও তাজা শাক সবজি ও ফল কিনুন। প্যাকটজাত পণ্য কেনার পূর্বে অবশ্যই মেয়াদ আছে কিনা দেখে নিন ।

৫. রাস্তায় দাঁড়িয়ে কারো সঙ্গে খোশগল্পে ব্যস্ত হবেন না। দোকানেও অহেতুক সময় নষ্ট করার দরকার নেই ।

৬. বাজার থেকে ফিরে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। ব্যবহৃত পোশাক ও জুতাও পরিষ্কার করে নিন ।

৭. প্রয়োজনে কয়েকদিনের জন্য বেশি করে বাজার করে রাখুন। এতে করে ঘন ঘন বাইরে বের হতে হবে না ।

৮. অবশ্যই বাইরে থেকে ঘরে ফিরে মাস্ক ও গ্লাভস ফেলে দিতে হবে ।

৯. বাজার বা দোকান থেকে ফেরার পর গোসল করে নিন। এতে করে আপনি সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্ত থাকবেন ।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষকে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে খুবই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কেনার বা সংগ্রহের জন্য কেউ কেউ বাইরে বের হচ্ছেন, যাচ্ছেন বাজারে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? বাজারে কি ধরণের ঝুঁকি আছে? আমরা জানি আক্রান্ত মানুষের হাঁচি কাশির সঙ্গে বেরন সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম থুতুকণার মধ্যে ভরা থাকে এই করোনাভাইরাস। হাঁচি কাশির মাধ্যমে সেগুলো আক্রান্ত মানুষের শরীর থেকে বেরিয়ে বাতাসে মেশে। সেই বাতাস যদি কেউ নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন কিংবা সেই ভাইরাস ভরা কণাগুলো যেসব জায়গায় পড়ছে সেগুলো হাত দিয়ে স্পর্শ করেন এবং সেই হাত আবার মুখে দেন তাহলে সংক্রমিত হবেন। আর তাই বাজারে গিয়ে অন্য লোকের কাছাকাছি আসলে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়বে। এ কারণেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে। অর্থাৎ অন্য মানুষের থেকে অন্তত দুই মিটার (প্রায় ছয় ফুট) দূরত্বে থাকা জরুরি। এছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী খালি হাতে নাড়াচাড়া করেন অনেকে। এগুলোর মাধ্যমেও ছড়াতে পারে করোনা ভাইরাস। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনের স্কুল ফর হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের অধ্যাপক স্যালি ব্লুমফিল্ড বলছেন, ভাইরাস ছড়ানোর একটা উর্বর ক্ষেত্র হল বাজার। বাজারে আপনি যেসব জিনিস কিনছেন সেগুলো আপনার আগে আরও অনেক মানুষ হয়ত হাত দিয়ে ধরেছে, নাড়াচাড়া করেছে। তিনি বলেন, যেখানে পয়সা দিচ্ছেন সেখানে আরও লোকের হাত পড়েছে, আপনি নগদ অর্থে দাম দিলে যে খুচরা হয়ত আপনাকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে সেগুলোও কিছুক্ষণ আগে অনেক হাত ঘুরে এসেছে। আপনি যদি এটিএম মেশিন থেকে পয়সা তুলে থাকেন, সেখানেও মেশিনের বোতামে আপনার আগে হয়ত আর কারও হাত পড়েছে। এরপর রয়েছে বাজারে আপনার ধারেকাছে দাঁড়ানো মানুষরা। এদের মধ্যে কে আক্রান্ত তা কি আপনি জানেন? ঝুঁকিগুলো কীভাবে এড়াবেন? বাজারে যাওয়ার আগে এবং বাজার থেকে ফিরে সাবান ও পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে ভাল করে হাত ধোবেন অথবা অ্যালকোহল ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করে নেবেন। ধরে নেবেন আপনি যেসব জায়গা হাত দিয়ে ধরেছেন সেগুলো খুব সম্ভবত সংক্রমিত। যেমন হ্যান্ড রেলিং, দরোজা, শপিং বাস্কেট, ট্রলি। আর যা কিনেছেন সেগুলোও। কাজেই বাজার করার পর হাত না ধোয়া পর্যন্ত মুখে কখনই হাত দেবেন না। পারলে অথবা সুযোগ থাকলে নগদ অর্থ ব্যবহার না করে কার্ড ব্যবহার করে বাজার করুন। তবে কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছুটা ঝুঁকি আছে। পশ্চিমের দেশগুলোতে কন্টাক্টলেস কার্ড আছে অর্থাৎ কার্ড ব্যবহারের সময় কিছু সই করতে বা পিন নম্বর পাঞ্চ করতে হয় না। তাই কার্ড ব্যবহারের সময় দোকানের কলম ব্যবহার করলে বা পিন নম্বর দেবার জন্য বোতাম চাপতে হলে পাওনা চুকিয়ে দেবার পর হাত ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। কেনা জিনিসগুলো নিয়ে কতটা দুশ্চিন্তা করার আছে? রান্না খাবারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রমিত হবার কোন তথ্যপ্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন খাবার রান্না হলে এই ভাইরাস মরে যায়। তবে কাঁচা শাকসবজি, ফলমূলে ঝুঁকি আছে। যেহেতু অন্য ক্রেতারা বাজারে যে কোন জিনিস হাত দিয়ে ধরে থাকতে পারে, এমনকি বিক্রেতারাও সেগুলো ধরছে, তাই এমন কোন নিশ্চয়তা নেই যে সেগুলো পুরো জীবাণুমুক্ত। কাঁচা বাজারের ক্ষেত্রে অধ্যাপক ব্লুমফিল্ডের পরামর্শ হল সবকিছু ভাল করে কলের ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে তারপর সেগুলো তুলে রাখবেন বা ব্যবহার করবেন। আর প্লাস্টিকের প্যাকে, টিনের বা কাঁচের পাত্রে বিক্রি হচ্ছে এমন কিছু কিনে আনলে সেগুলো ৭২ ঘণ্টা না ছুঁয়ে সরিয়ে রেখে দেবেন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করতে চাইলে সেগুলো জীবাণুমুক্ত করার তরল পদার্থ (ব্লিচ জাতীয় ডিসইনফেকেটন্ট) দিয়ে মুছে নিন। তবে কড়া ব্লিচ ব্যবহার করবেন না। বোতলের গায়ে দেখে নেবেন কতটা পরিমাণ পানি মিশিয়ে তা হালকা করে নিতে হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.