Take a fresh look at your lifestyle.

করোনায় যাদের ঝুকি বেশি ও তাদের করনীয়

0

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি স্থুলকায় বা মোটা হলে ঝুঁকি বেশি থাকে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধান মহামারী বিশেষজ্ঞ জন ফ্রান্সিস ডেলফ্রাইসি। যুক্তরাষ্ট্রে স্থূলকায় মানুষজন এক্ষেত্রে ঝুঁকিতে আছেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, এই ভাইরাস সত্যিই ভয়ানক। অল্পবয়সীরাও আক্রান্ত হচ্ছে। তবে মোটা মানুষদের ঝুঁকি বেশি। যাদের অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, তাদের অত্যন্ত সচেতন থাকা দরকার। জন ফ্রান্সিস আরো বলেন, এ কারণে আমাদের মার্কিন বন্ধুদের নিয়ে চিন্তায় আছি। সেখানে স্থূলতা একটা বড় ধরনের সমস্যা। সে দেশে মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন বহু মানুষ। আর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক হয়েছে সেখানে। তিনি আরো বলেন, ফ্রান্সের ২৫ শতাংশ মানুষ করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিতে আছেন কেবল বয়স এবং শারীরিক পরিস্থিতির কারণে। এক্ষেত্রে স্থূলতা বড় সমস্যা। এর আগে ২০১৮ সালে এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৪২ দশমিক চার শতাংশ মানুষ মোটা। মোটা হওয়ার জেরে ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, ক্যান্সার এবং অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে মার্কিন সেন্টার ফর ডিসিস অ্যান্ড কন্ট্রোল প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে ।

শুধু ‘মধু ও কালোজিরা’ খেয়ে করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন নাইজেরিয়ার ওয়ো রাজ্যের গভর্নর সেয়ী মাকিন্দে। করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে ফিরে সোমবার (৬ এপ্রিল) এমনই তথ্য দিয়েছেন তিনি। করোনা আক্রান্ত থেকে সুস্থ হওয়া মাকিন্দে জানান, শুধু কালোজিরা আর মধু খেয়েই তিনি করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন। তিনি পরীক্ষার পর করোনা শনাক্ত হওয়ার এক সপ্তাহে কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠেন। প্রিমিয়াম টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাকিন্দে টুইটারে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন। ইবাদানের ফ্রেশ এফএম-এ এক অনুষ্ঠানের সময় টেলিফোন সাক্ষাত্কারে মি. মাকিন্দে বলেছিলেন যে তিনি মধু, ভিটামিন সি এবং ব্ল্যাকসিড অয়েল ব্যবহার করেছেন। মাকিন্দে অনুষ্ঠানে বলেন, ওয়ো রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা বোর্ডের নির্বাহী সচিব ড. মাইদেন ওলাতুনজি আমার হাতে কালোজিরা তুলে দেন। তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে দেন তিনি। সেগুলো খেয়ে আমি এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পােই। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি আইসোলেশন ছিলেন। করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। অবশেষে তিনি জয়ী হলেন। শুধু কালোজিরা আর মধু খেয়েই তিনি করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। করোনার হাত থেকে বাঁচতে শরীরের ইমিউনিটিকে শক্তিশালী করার কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ইমিউনিটিকে শক্তিশালী করার উপাদান আমাদের হাতেই রয়েছে। মাকিন্দে আরো বলেন, কালোজিরা আর মধুর মিশ্রণটি সকালে একবার ও সন্ধ্যায় একবার খেতে বলেন মাইদেন। আমি সেই উপদেশ মেনে চলেছি। আমি এখন ঠিক আছি। সুস্থ অনুভব করছি। আমি এখন করোনা মুক্ত। আমি বলতে চাই, করোনার এই সময়ে আতঙ্কিত হলে চলবে না। চিকিৎসকের উপদেশ মেনে চললে অতি দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়। সুতরাং, অনাক্রম্যতা বাড়ানোর স্থানীয় সমাধান রয়েছে। আমাদের লোকদের হতাশ করা উচিত নয়। আমি যেমন আমার সিস্টেম থেকে ভাইরাসকে বের করতে সক্ষম হয়েছি, তেমনি এটি আমাদের বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেও বের করা সম্ভব হবে।

সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসের তাণ্ডব চলছে। দেশে দেশে লকডাউন চলছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে। সবাইকে বলা হচ্ছে বাসায় থাকতে৷ কিন্তু এই অবস্থায় শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায় কী? সময় সংবাদের পাঠকদের জন্য লকডাউনে সুস্থ থাকার ছয় উপায় জানানো হলো:-

১. নিয়ম ঠিক রাখুন বাসায় বসে অফিস করুন কিংবা ছুটি কাটান। সেটা আগের স্বাভাবিক নিয়মেই করুন। সঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, গোসল করা, খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷

২. আমিষ জাতীয় খাবার খান এই সময়ে বাসায় বসে আমিষ জাতীয় খাবার খান। শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতে এজাতীয় খাবার খেতে হবে। এই খাবারে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম, এমন খাবার বেশি করে খান।

৩. ব্যায়াম করুন বাসার বাইরে বের না হওয়ার কারণে স্বাভাবিক হাঁটাচলাও বন্ধ রয়েছে। এসময়ে বাসাতেই ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করে নিন। প্রয়োজনে ইউটিউবের সাহায্য নিয়ে নতুন কিছু যোগাসনও শিখে নিতে পারেন৷ এতে শরীর থাকবে চাঙ্গা, মন থাকবে ফুরফুরে।

৪. ঘুমের গুরুত্ব দিন বাসার বাইরে যেতে হচ্ছে না বলেই ইচ্ছে মতো রাত জাগা বা দেরি করে ওঠা আপনাকে বিধ্বস্ত করে দিতে পারে। তাই সঠিক সময়ে ঘুমাতে যান আবার সঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠুন। ঘুম না ধরলে ছোট বেলার ইংরেজি কবিতার মতো ‘আরলি টু বেড’ আরলি টু রাইসিং’ মনে মনে পড়ে ঘুমিয়ে যান। দেখবেন আপনার স্বাভাবিক চিন্তার পরিবর্তন হয়েছে। ঘুম যাতে পর্যাপ্ত হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিন। ৫. বিকল্প সামাজিক যোগাযোগ বাইরে গিয়ে সশরীরে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলেও অনলাইনেই বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিন ।

৬. শখের সময় এসময় আপনার সখ পূরণ করতে পারেন। ধরুন কেউ বাগান করতে পছন্দ করেন, কেউ গান গাইতে, কেউ ছবি আঁকতে পছন্দ করেন। এ সময়ে নিজেকে আরো ঝালিয়ে নিন। লকডাউন শেষ হতে হতে হয়তো আপনি দক্ষ শিল্পী হয়ে উঠতে পারেন।

এক কাপ গরম পানীয় হয়তো কিছুটা স্বস্তি বা আরামবোধ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ঠাণ্ডা একটা দিনে। হয়তো বিক্ষিপ্ত মনকে কিছুটা ঠাণ্ডা করতে পারে, অন্য মানুষজনের কাছাকাছি অনুভব করার বোধ তৈরি করতে পারে। কিন্তু করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর মতো কঠিন সময়ে কি এটি কোনো সহায়তা করতে পারে? সামাজিক মাধ্যম এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ বার্তাগুলোয় এখন এ ধরণের অনেক দাবি, পরামর্শ ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেসব ভুয়া বার্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে এগুলো তারই অন্যতম। একটিতে দাবি করা হয় যে, গরম পান পান করলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা যেতে পারে। এই বার্তা এতোটাই ছড়িয়ে পড়ে যে, ইউনিসেফ এ বিষয়ে একটি বিবৃতি জারি করতে বাধ্য হয় যে, এরকম কোনো ঘোষণা তারা দেয়নি। যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ রন একেলিস বলেছেন, গরম পানীয় ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে, এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ঠাণ্ডা এবং ফ্লুতে ভোগার সময় ঠাণ্ডা পানি খেলে কি ঘটে, তা নিয়ে অতীতে গবেষণা করেছেন একেলিস। তিনি দেখতে পেয়েছেন যে, ঠাণ্ডা লাগলে গরম পানীয় হয়তো খানিকটা স্বস্তি দিতে পারে। এর কারণ হয়তো গরম পানীয় মুখ ও নাকের লালা এবং শ্লেষ্মা এর নিঃসরণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা প্রদাহ কমিয়ে দিতে পারে। কিন্তু তিনি এই সিদ্ধান্তেও পৌঁছেছিলেন যে এর মধ্যে হয়তো রোগী গ্রহণ করা কিছু ওষুধের মানসিক প্রভাবও থাকতে পারে। কিন্তু যেসব কারণে সংক্রমণ হয়ে থাকে, সেই ভাইরাস মুক্ত করতে পারে না গরম কোন পানীয়। সার্স-কোভ-২, যে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ রোগের জন্ম দিয়েছে, সেটির ক্ষেত্রে বিবিসি ফিউচার পরীক্ষা করে দেখতে পেয়েছে যে, নতুন ধরণের এই করোনাভাইরাসের বিপক্ষে কোনো ধরণের প্রতিরক্ষাই দিতে পারে না খাবার পানি। পানি খেলে বা গার্গল করলেও এই ভাইরাস ধুয়ে যায় না। মেরে ফেলাও যায় না। অন্য ব্যক্তিদের কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ক্ষুদ্র আকারে এটি নাক বা মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করার পর মানুষজনকে সংক্রমিত করে থাকে। প্রথমত এটি মানুষের ফুসফুসের কোষগুলোকে আক্রমণ করে। সেখানকার কোষগুলো এমন একটি এনজাইম ব্যবহার করে, যা ব্যবহার করে ভাইরাস ফুসফুসের ভেতরে প্রবেশ করে। শ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে এসব ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র ফোঁটা ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে যায়- যেখানে মুখ থেকে যাওয়া যেকোনো তরল পৌঁছানো সম্ভব। একবার শরীরে প্রবেশ করার পর ভাইরাস খুব দ্রুত মানব শরীরের কোষের ভেতরে চলে গিয়ে নিজের অনেকগুলো কপি তৈরি করে। ফলে এটিকে মুছে বা ধুয়ে ফেলার যেকোনো চেষ্টা থেকেই সেটা নিজেকে রক্ষা করতে পারে। প্রথমদিকের কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে যে, প্রথম কোষটি সংক্রমিত করার পরে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়তে ভাইরাসের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লাগে। একইভাবে, আমাদের শরীরের কোষে প্রবেশ করার পর বাইরের যেকোনো রকম তাপমাত্রা থেকে ভাইরাসটি নিজেকে রক্ষা করতে পারে। মানবশরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট), যা ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি ও বিস্তারের জন্য আদর্শ। ফলে গলার মধ্যে গরম পানির গড়গড়া করো কোষের ভেতরে থাকা ভাইরাস হত্যা করা যায় না। এজন্য ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অথবা তার বেশি তাপমাত্রা দরকার, যা সার্সের মতো করোনাভাইরাস হত্যা করতে পারে। অবশ্য কিছু পরীক্ষায় বলা হয়েছে যে, এই তাপমাত্রা হওয়া উচিত ৬০-৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। তবে যে ভাইরাসের কারণে কোভিড-১৯ সংক্রমণ হয়েছে, সেই ভাইরাসটি কত ডিগ্রি তাপমাত্রা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, তা নিয়ে এখনো কোন গবেষণা প্রকাশিত হয়নি। ধারণা করা হয়, এটি অন্য করোনাভাইরাসগুলোর মতোই হতে পারে। ভাইরাস হত্যা করতে ৭০ ডিগ্রি বা তার চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় রান্না করা যেতে পারে, কিন্তু এ ধরণে তাপে মানব ত্বক পুড়ে যাবে এবং ক্ষতের সৃষ্টি করবে। অনেক ভুয়া পরামর্শে যেমন গরম পানিতে গোসল করতে বলা হয়। কিন্তু এরকম পানির পানির পাত্রে নেমে বেশিক্ষণ টিকে থাকা কঠিন। আর কেউ যদি সেরকম পানিতে টিকে থাকতেও পারেন, সেটা তার শরীরের ভেতরে থাকা ভাইরাস ধ্বংস করতে পারে না। এর কারণ হলো, আপনি বাইরে যত তাপমাত্রায় থাকুন না কেন, আপনার শরীর তার তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই সীমাবদ্ধ রাখবে। ফলে ভাইরাস হত্যা করতে গিয়ে বাইরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে আপনি হয়তো আপনার শরীর পুড়িয়ে ফেলবেন এবং শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলবেন। আপনার শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়া মানে আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রা হলে আর তখন দ্রুত চিকিৎসা দেয়া না হলে, মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অনেক ভুল পরামর্শে দাবি করা হয় যে, চায়ের মধ্যে বেশ কিছু উপাদান মিশ্রিত করা হলে সেটি কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে। কিন্তু এর পক্ষে বিজ্ঞানসম্মত কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুতরাং গরম পানীয়ের হয়তো অনেক ভালো দিক থাকতে পারে। কিন্তু কোভিড-১৯ থেকে নিজেকে রক্ষার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিয়মিতভাবে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নির্দেশাবলী অনুসরণ করা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.